এআই অপব্যবহারের বলি স্কুলছাত্রী রাহি: অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ
মো: মিজানুর রহমান সুমন, বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার জেরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নবম শ্রেণির ছাত্রী আফসানা আক্তার রাহির (১৪) আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় জনতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় ‘গোপালপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রবণতা সমাজে এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একজন সম্ভাবনাময় স্কুলছাত্রীকে যেভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে জীবন দিতে হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আন্দোলনকারীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার মূল হোতা ইসমাইল, নাঈম ও রনিসহ জড়িত সকলের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) দাবি করেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কেউ কোনো নারী বা শিক্ষার্থীকে নিয়ে অনলাইনে এমন অপরাধ করার সাহস না পায়, তার জন্য প্রশাসনকে কঠোর উদাহরণ তৈরি করতে হবে।
মানববন্ধন চলাকালীন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।
খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামছুজ্জামান বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো আশ্বাস দেন। ওসির আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে প্রায় ৮-১০ মিনিট পর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সামছুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
"শিক্ষার্থীরা কিছু সময় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিল। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা শান্ত হয় এবং সড়ক ছেড়ে চলে যায়।"
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৭ জুন) উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের মধ্যম জিরতলী গ্রামের নতুন খামার বাড়ি এলাকার নিজ ঘর থেকে আফসানা আক্তার রাহির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আত্মহত্যার আগে রাহি একটি চিরকুট (সুইসাইড নোট) লিখে যান, যেখানে ইসমাইল নামের এক যুবকের নাম উল্লেখ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এই নির্মম ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের দাবি, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি বন্ধে এই ঘটনার পেছনের মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।








