কোস্ট গার্ড স্টেশনে সন্ত্রাসী হামলা: সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
কোস্ট গার্ড স্টেশনে সন্ত্রাসী হামলা: সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি:

সুন্দরবনের মোংলা থানাধীন জয়মনির ঘোল এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের হারবাড়িয়া স্টেশনে সংঘটিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, বনদস্যু ও অবৈধ বনজ সম্পদ আহরণকারীদের বিরুদ্ধে বাহিনীর কঠোর অবস্থানের প্রতিক্রিয়াতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ করে স্টেশন এলাকায় প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং দায়িত্বরত সদস্যদের ওপর হামলা করে। এতে কয়েকজন সদস্য আহত হন। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বনদস্যু দমন এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বাহিনীর সফল কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার পরপরই কোস্ট গার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে প্রশাসনের সহায়তায় সমন্বিত অভিযান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়মনির ঘোল অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর চলাচলের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হতো। হারবাড়িয়া স্টেশন প্রতিষ্ঠার পর বনদস্যুদের যোগাযোগ, অস্ত্র সরবরাহ ও রসদ সংগ্রহের কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ফলে এসব চক্র কোস্ট গার্ডকে তাদের কার্যক্রমের প্রধান বাধা হিসেবে বিবেচনা করছে।

কোস্ট গার্ড সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। হামলাকারীরা এমন সব স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করে, যেগুলো বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে সহিংসতা চালিয়ে কোনো অপরাধী গোষ্ঠী তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পারবে না। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী একটি মহল এ ঘটনার পেছনে থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হারবাড়িয়া স্টেশনের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সুন্দরবনের মতো পরিবেশগত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সরকারি নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য নয়, বনজ সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় এনে সুন্দরবনে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।