বিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষে ২ শিক্ষার্থীর শারীরিক সম্পর্কে এলাকায় তোলপাড়!
সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের ঘটনা রোববার (১৫ জুন) প্রকাশ্যে এলে বিদ্যালয় ও এলাকাজুড়ে তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে কানাঘুষার একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে অবগত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির আইনগত কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ধামাচাপা দেয়ারও অভিযোগ ওঠেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্ন বিরতির সময়ে ভবনটির নিচতলায় অষ্টম শ্রেণির ‘ক’ শাখার একটি শ্রেণিকক্ষে এমন ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জড়িত ওই দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন দশম শ্রেণির ছাত্র। তার বাড়ি উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামে এবং অন্যজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সে ওই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
সূত্রমতে, ঘটনার বিষয়টি কয়েকদিন গোপন থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে রোববার তা প্রকাশ্যে আসে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডেকে আনেন।
একাধিক সূত্রের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দুই শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ আচরণের বিষয়টি ধরা পড়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক বা আইনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেয়। এ সময় সায়েস্তা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শরীফ মৃধার উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীর মায়ের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে সই স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় এমন অসামাজিক আচরণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা দুঃখজনক । তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত, তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সায়েস্তা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো.শরীফ মৃধা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,স্কুলের সন্মান রক্ষার্থে শিক্ষার্থীদ্বয়কে পুলিশে হস্তান্তর না করে অভিভাবকদের অঙ্গীকারনামা নিয়ে তাদেরকে টিসি দিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুই শিক্ষার্থীর আপত্তিকর কথাবার্তা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। পরে বিষয়টি ইউএনও স্যারের অনুমতি নিয়ে অভিভাবকদের ডেকে সমাধান করা হয়েছে....








