১৮৮ কর্মকর্তার পদোন্নতি-বদলি বাণিজ্যে ৪ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
১৮৮ কর্মকর্তার পদোন্নতি-বদলি বাণিজ্যে ৪ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যে প্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১৮৮ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও বদলিকে কেন্দ্র করে এই অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদকের নথি অনুযায়ী, অভিযোগের তীর সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, তৎকালীন সচিব মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মাসুম আহমেদসহ কয়েকজন কর্মকর্তার দিকে।

দুদক জানায়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন পদে পদায়নের আদেশ দেওয়ার নামে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার নামে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডারেও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানাধীন। নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দুদক।

অনুসন্ধান দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালাম। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন। তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিতে দুদকে তলব করা হতে পারে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে অভিযোগের প্রমাণ জনগণের সামনে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি দাবি করেন, ১৮৮ জন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার কাছ থেকে জনপ্রতি ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে। দুদক প্রমাণ পাওয়ার কথা বলছে—সেই প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। রাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ।