রাজশাহীতে ৪০০ ইয়াবা থেকে ১০ পিসে নামল উদ্ধার, ডিবি এসআই জাকিরের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
রাজশাহীতে ৪০০ ইয়াবা থেকে ১০ পিসে নামল উদ্ধার, ডিবি এসআই জাকিরের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

 রাজশাহ প্রতিনিধি:

রাজশাহী মহানগরীতে নাজমা ওরফে ফুচো নামের এক চিন্হিত মাদক কারবারিকে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর ১০পিস ইয়াবা দিয়ে চালানের অভিযোগ উঠেছে ডিবি এসআই জাকিরের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বোয়ালিয়া থানাধীন পঞ্চবটির শ্মশানঘাট সংলগ্ন মাদক কারবারির নিজ বসতবাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

এসময় মাদক কারবারির বাড়ি থেকে ইয়াবার দুই জিপারসহ ৪০০ পিস ইয়াবা, ১ কেজি গাঁজা ও ৪ পাতা ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হলেও, পরে টাকার বিনময়ে ডিবি এসআই জাকির তা মাত্র ১০পিস ইয়াবা ও ৫০গ্রাম গাঁজা জব্দ দেখান।

পঞ্চবটি এলাকার এই চিন্হিত মাদক কারবারি ফুচো, যার ছেলে-মেয়ে, জামাই থেকে শুরু করে দেবর পর্যন্ত মাদক কারবারি তার বাড়িতে ১০পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যাওয়ার সত্যিই হস্যকর লাগে।

আটক চিন্হিত মাদক কারবারি নাজমা ওরফে ফুচো (৪৫), তিনি রাজশাহী মহানগরীর পঞ্চবটি এলাকার চিন্হিত মাদক কারবারি নজু‘র স্ত্রী। স্বামী নজু (৫৫), ছেলে বাঁধন (২২) ও বিশাল (২৫), মেয়ে মুন্নি (৩২), জামাই জানি (৩৫), দেবর মিঠু (৫০), দেবর এর ছেলে আলিফ (২২) উভয়ে পঞ্চবটি এলাকার চিন্হিত মাদক কারবারি। এই পরিবার পঞ্চবটি এলাকায় ভাতিজা ২৩ নং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব শিমুল ইসলামের (৩০) রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের রমরমা কারবার করে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, মাদক কারবারি ফুচো'র বাড়িতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই জাকিরের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানের সময় মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।  

প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে অভিযানে থাকা ডিবি সদস্য এসআই জাকিরের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। এ সময় অর্থ লেনদেন নিয়ে কথাবার্তাও হয় বলে তিনি দাবি করেন। প্রথমে প্রায় দুই লাখ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরে দরকষাকষির মাধ্যমে দেড় লাখ টাকায় সমঝোতার আলোচনা চূড়ান্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীর আরও দাবি, আলোচনার সময় ডিবির এসআই জাকির বলেন, “সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ কম দেখিয়ে মামলা দেওয়া যেতে পারে।” পরে উভয় পক্ষের মধ্যে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ডিবি এসআই জাকির এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পঞ্চবটিতে নাজমা নামের এক মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাত্র ১০পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ তাকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জী, একজন নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে শুনেছি। তবে কত পরিমাণ মাদকসহ তাকে আটক করেছে আমি জানি না। আসলে আমি গতকালকে ঢাকায় থাকায় বিস্তারিত জানি না। তবে আমি থানায় গেলে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপি’র মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, “বিষয়টি ইতোমধ্যে আমার নজরে এসেছে। আটক ফুচো নামে ওই নারী একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তবে এ ধরনের মাদক কারবারিরা সাধারণত নিজেদের বাসায় অধিক পরিমাণ মাদক সংরক্ষণ করে না। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিবি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নাম প্রকাশ না করা সত্তে একাধিক এলাকাবাসী জানায়, এই চিহ্নিত মাদক কারবারি ফুচো ছাড়াও তার ভাতিজা ২৩ নং ওয়ার্ড যুবদলের নেতা শিমূল ইসলামের মা পলি (৪৫), পিতা মানিক (৫৬), চাচা বাবু (৫৮) প্রত্যেকেই চিন্হিত মাদক কারবারি। এই যুবদল নেতা শিমূল রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুরো পঞ্চবটিতে মাদক রমরমা কারবার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার ওপর নেমে আসে ভয়ংকর নির্যাতন। এই শিমুল পুলিশ, ডিবিকে ম্যানেজ করে এলাকায় অধিপত্য বিস্তার করেছে।

এলাকাবাসী আরও জানায়, মাঝে মাঝে এই শিমূল মাদক নিধনের নামে এলাকায় তার সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে নাটকীয় অভিযান পরিচালনা করে। মূলত এই নাটকীয় অভিযানের মূল উদ্দেশ্যই হল তার পরিবারের বাইরে যারা মাদক কারবার করছে, তাদের উচ্ছেদ করে এলাকায় নিজেদের একক পারিবারিক মাদক করাবার চালিয়ে যাওয়া। আমার প্রশ্ন একজন মাদক কারবারির ছেলে কিভাবে বিএনপি’র নেতা হল? কারাই বা তাকে ২৩ নং ওয়ার্ডের নেতা বানালো?