ময়মনসিংহে ভয়াবহ নিয়োগ জালিয়াতি: ৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনের সনদ জাল

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
ময়মনসিংহে ভয়াবহ নিয়োগ জালিয়াতি: ৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনের সনদ জাল
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা-এর বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ নিয়োগ জালিয়াতি ও জাল সনদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ৭৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ৭৩ জনের সনদই জাল। এর মধ্যে কলেজ শাখার ৬১ শিক্ষক-কর্মচারীর সবার সনদ জাল বলে তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। ডিআইএর তদন্ত অনুযায়ী, জাল সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার বেশি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে কলেজ শাখার শিক্ষক-কর্মচারীরা ৪ কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং স্কুল শাখার শিক্ষক-কর্মচারীরা ১ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৮০১ টাকা গ্রহণ করেছেন। গত বছরের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন ডিআইএর পরিদর্শক সনজয় চন্দ্র মন্ডল, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মো. নুরুল আফছার এবং অডিটর মো. সিরাজুল ইসলাম। সম্প্রতি তদন্ত প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এত সংখ্যক শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছি।” অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ২০০০ সালে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে নিয়োগের সময় তার প্রয়োজনীয় বিএড সনদ ও অভিজ্ঞতা ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতা সীমিত করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছিল। পরে তিনি শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে বিএড সনদ গ্রহণ করেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তারা সেই সনদকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো তার স্নাতকোত্তর সনদের সঙ্গে প্রকৃত পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সনদধারীর পিতার নাম “Md Asir Uddin” এবং মাতার নাম “Mrs Ahmeda Khatun”। অথচ ইমদাদুল হকের এসএসসি, আলিম ও চাকরির নথিতে পিতার নাম “মো. আজহার আলী” এবং মাতার নাম “মমিরন নেছা” উল্লেখ রয়েছে। এ কারণে তদন্ত কর্মকর্তারা সনদটিকে জাল বলে উল্লেখ করেছেন। তদন্তে আরও জানা যায়, এমপিওভুক্তির সময় তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ জমা দিলেও নিরীক্ষাকালে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির আরেকটি সনদ দাখিল করেন। তবে ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদও গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাল সনদ ব্যবহার করে অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক একাই ৪১ লাখ ২১ হাজার ২৬১ টাকা সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২৬ লাখ ১৮ হাজার ৮৫৪ টাকা এবং অধ্যক্ষ হিসেবে ১৬ লাখ ১০ হাজার ৪০৭ টাকা গ্রহণ করেছেন। তদন্তে উঠে এলো আরও অনিয়ম ডিআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয়নি। সরকারি মালামালের হিসাব ও নিয়মিত স্টক যাচাইয়েরও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, গভর্নিং বডির কার্যক্রমে অসঙ্গতি এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড ও এমপিও নীতিমালা ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা আরও উল্লেখ করেন, এক পদে কর্মরত থেকে অন্য পদের বেতন উত্তোলনের ঘটনাও ঘটেছে, যা সরকারি আর্থিক বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (নিরীক্ষা অধিশাখা) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনটি এখনো আমার কাছে পৌঁছেনি। প্রতিবেদন হাতে পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া