মিথ্যা তথ্য শনাক্তে সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
মিথ্যা তথ্য শনাক্তে সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তে সরকারি তথ্য ব্যবস্থায় সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।


বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।


লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং ও তথ্য যাচাই কাঠামো গড়ে তুলেছে। তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘ফ্যাক্টচেকিং ও গুজব প্রতিরোধ কমিটি’ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।


কমিটির দিকনির্দেশনায় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ও বিভাগীয় শহরের আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পর্যবেক্ষণ করছে। মিথ্যা তথ্য ও গুজব শনাক্তের পর বস্তুনিষ্ঠ তথ্যসংবলিত সরকারি ফ্যাক্টচেক বার্তা ও স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।


প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া অ্যানালাইসিস কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পিআইবির ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এ পর্যন্ত ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকাশ করা হয়েছে ৩০৬টি।


এ ছাড়া পিআইবির প্রশিক্ষণ বিভাগ ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০টি প্রশিক্ষণে ৭৩৯ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ে ১৪টি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


লিখিত জবাবে বলা হয়, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এসব প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। গত দুই বছরে পিআইবির প্রতিটি প্রশিক্ষণেই গুজব মোকাবিলায় করণীয়, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে অন্তত একদিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।


প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম ও ছবি ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট। এ ছাড়া সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে প্রচারণা ও অপতথ্য ছড়ায়—এমন ১৬টি ওয়েবসাইটও শনাক্ত করা হয়েছে।


বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


বর্তমানে বাংলাফ্যাক্ট প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন, রিল ও ভিডিও প্রকাশ করছে বলেও সংসদকে জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।