বন্ধুদের আড্ডা থেকে ব্যবসা, চবির দুই শিক্ষার্থীর চার লাখ টাকার জার্সি বিক্রি
আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি :
বন্ধুদের আড্ডায় ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে জার্সি বিক্রির প্রসঙ্গ থেকেই জন্ম নেয় একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে মাত্র ১৩টি জার্সি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দুই শিক্ষার্থী মনির হোসেন ও জিয়া উদ্দিন। প্রায় দুই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশন ও ফুটপাতে বসে তাঁরা প্রায় চার লাখ টাকার জার্সি বিক্রি করেছেন।
মনির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী এবং জিয়া উদ্দিন একই বর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী। দুজনেরই বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। প্রায় আট বছর আগে তাঁদের বন্ধুত্বের শুরু। সেই সময় থেকেই ব্যবসা নিয়ে নানা পরিকল্পনা ও আলোচনা করতেন তাঁরা।
গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে পরিচিত এক সিনিয়রের কাছ থেকে মাত্র ১৩টি জার্সি সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দুটি টেবিল ও দুটি স্ট্যান্ড দিয়ে ছোট্ট একটি দোকান চালু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন বিকেলে তাঁরা সেখানে জার্সি বিক্রি করেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের ফুটপাতেও তাঁরা একইভাবে জার্সি বিক্রি করেছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে তাঁদের দোকানে শিক্ষার্থীদের ভিড়। সেখানে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন ও ফ্রান্সের জার্সির চাহিদাই বেশি।
মনির হোসেন জানান, ঈদুল ফিতরের পর বন্ধুদের আড্ডায় জিয়া উদ্দিন স্টেশনে জার্সি বিক্রির প্রস্তাব দেন। ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জার্সির চাহিদা থাকবে—এমন ধারণা থেকেই তাঁরা উদ্যোগ নেন। শুরুতে পরিচিত এক সিনিয়রের কাছ থেকে ১৩টি জার্সি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। পরে চাহিদা বাড়ায় ধীরে ধীরে বিনিয়োগও বাড়ান।
দুই বন্ধু জানান, শুরুতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তাঁরা। বিক্রির অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করে নতুন জার্সি সংগ্রহ করেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি জার্সি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তাঁদের কাছে প্রায় ২৫ হাজার টাকার জার্সি রয়েছে। সব মিলিয়ে বিক্রি হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকার জার্সি এবং খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।
মনির হোসেন বলেন, “অনেক আগে থেকেই ব্যবসা করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ব্যবসা পরিচালনা, ক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করা কিংবা বাজার সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। তবু স্নাতকোত্তরে এসে সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছি।”
দুই শিক্ষার্থী জানান, শুরুতে তাঁরা উচ্চমানের জার্সি বিক্রি করলেও পরে শিক্ষার্থীদের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে তুলনামূলক কম দামের জার্সিও যুক্ত করেন। বর্তমানে তাঁরা তিনটি মূল্যমানের জার্সি বিক্রি করছেন।
জিয়া উদ্দিন বলেন, “আড্ডার ছলে শুরু করা এই ব্যবসা আমাদের শুধু লাভই দেয়নি, বাস্তব অভিজ্ঞতাও দিয়েছে। সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ, ক্রেতাদের সঙ্গে আচরণ এবং বাজার বোঝার সুযোগ হয়েছে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মনির হোসেন বলেন,“বিশ্বকাপকে ঘিরে শুরু হলেও শুধু জার্সি বিক্রিতেই থেমে থাকতে চাই না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেতাদের কাছেও জার্সি সরবরাহ করা হচ্ছে।”









