জলবদ্ধতা পরিদর্শনে চার মন্ত্রী কাজ শেষ হলে থাকবে না স্থায়ী জলাবদ্ধতা: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
জলবদ্ধতা পরিদর্শনে চার মন্ত্রী কাজ শেষ হলে থাকবে না স্থায়ী জলাবদ্ধতা: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

‎মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রতিদিন:

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ চলতি বছরেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে নগরে আর স্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায়ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নতি আসবে।

‎শনিবার (১৬ মে) বিকেল তিনটার দিকে নগরের শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

‎অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন করে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমানোই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন ও সিডিএ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছে, যার সুফল সামনে পাওয়া যাবে। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ সফলভাবে এগিয়ে চলছে এবং যেখানে যেসব সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

‎তিনি আরও বলেন, কিছু এলাকায় সরকারি জায়গার ওপর গড়ে ওঠা স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ানো, প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ চলছে।

বর্ষা শেষে পূর্ণোদ্যমে শুরু হবে কাজ

‎বর্তমানে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় কিছু অসমাপ্ত কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বর্ষা শেষে প্রকল্পগুলোর কাজ আবার পূর্ণোদ্যমে শুরু হবে। কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না। যদিও অতিবৃষ্টির সময় সাময়িক জলজট সৃষ্টি হতে পারে, তবে তা দ্রুত‎ ঔ

‎চার প্রকল্পে ব্যয় ১৪ হাজার কোটি টাকা

‎চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বাস্তবায়ন করছে দুটি প্রকল্প, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

‎এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। গত সাত থেকে আট বছরে প্রকল্পগুলোর কাজে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি করে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

‎অর্থমন্ত্রী বলেন, “অতীতে অনেক প্রকল্প নেওয়া হলেও যথাযথ অর্থায়ন হয়নি। এখন প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস খাতে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আগের সরকারের রেখে যাওয়া দায়ও পরিশোধ করতে হচ্ছে। তারপরও চট্টগ্রামের এই প্রকল্পগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”

লুটপাট হলে তদন্ত হবে

‎প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে যদি কোনো লুটপাট হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্ত করা হবে। এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরও খুঁজে বের করা হবে।

‎তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ছোট-বড় প্রায় ১৩০টি খালকে প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে সুফল পাওয়া যাবে না। কতটুকু বৃষ্টিতে কী পরিমাণ পানি প্রবাহিত হবে এবং কীভাবে সাগরে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যাবে, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। এতে জোয়ার-ভাটা ও স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এখন সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ হচ্ছে

‎আগে জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সমন্বয়ের মাধ্যমে সবাই কাজ করছে। প্রকল্পগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

‎নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, খালকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

প্রথম বৃষ্টিতেই ডুবেছিল নগর

‎গত ২৮ এপ্রিল মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। কোথাও বুকসমান, কোথাও হাঁটুপানিতে অচল হয়ে পড়ে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন প্রবর্তক মোড় ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতান ঘিরে ব্যস্ত এই এলাকায় কয়েক ঘণ্টা স্থবির হয়ে পড়ে যান চলাচল।

‎শনিবারের পরিদর্শনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মীর শাহে আলম, মো. রাজিব আহসান, শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুল আলম এবং প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিনুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।