চবি শিক্ষার্থীর ‘মাটির গন্ধে প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
চবি শিক্ষার্থীর ‘মাটির গন্ধে প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

আহমেদ মুনহা,  চবি প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান নাজিরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মাটির গন্ধে প্রার্থনা’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওসমান গণি সঞ্চালনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দীন কাদেরী।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ফারুক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আ. ন. ম. আব্দুল মাবুদ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনামুল হক মুজাদ্দেদী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দীন কাদেরী বলেন, জাহেলি যুগে কবিরা সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। তাদেরকে বিশেষ প্রতিভার অধিকারী হিসেবে দেখা হতো। তবে সময়ের পরিবর্তনে মানুষের কবিতার প্রতি আকর্ষণ কমে গেছে, যা জীবনবোধ, অনুভূতি ও উপলব্ধির প্রতিও আগ্রহ হ্রাসের ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি বলেন, কবিতার আবেদন সাধারণ লেখালেখির তুলনায় অনেক গভীর। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারে মানুষ বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বই ও কবিতার প্রয়োজন কখনো ফুরাবে না উল্লেখ করে তিনি নতুন প্রজন্মকে বেশি বেশি কবিতা চর্চার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ফারুক বলেন, ইমরান নাজিরের কাব্যগ্রন্থ 'মাটির গন্ধে প্রার্থনা' বাংলা কবিতায় গ্রামীণ জীবন, লোকঐতিহ্য ও মাটির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। জসীমউদ্দীন, সুফিয়া কামাল ও মল্লারীর মতো কবিদের ধারার প্রতিফলন এ গ্রন্থে পাওয়া যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, নগরায়নের নেতিবাচক প্রভাবের এই সময়ে কবি তাঁর রচনার মাধ্যমে পাঠককে শেকড়ের কাছে, মাটির কাছে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গ্রন্থটিতে আধ্যাত্মিকতা, ধর্মীয় ভাবধারা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটেছে, যা সমকালীন বাংলা কবিতায় সাহসী উদ্যোগ।

চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব বলেন, কবিতা শুধু সাহিত্যচর্চার জন্য নয়, বরং মানুষকে উদ্বুদ্ধ করারও শক্তিশালী হাতিয়ার। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ও কবিদের উৎসাহিত করতেন এবং ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে কবিতা ও গান মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনেও বিভিন্ন কবিতা ও গান তরুণদের উজ্জীবিত করেছে।