জাবির সাবেক ছাত্রীকে গালিগালাজ, অভিযোগ পত্র জমা
জাবি প্রতিনিধি :
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক সাবেক ছাত্রীর সাথে অসদাচরণ ও আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে এক বর্তমান ছাত্রের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ঐ শিক্ষার্থীর নাম জুনায়েদ আল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী এবং আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ভুক্তভোগী আফসানা উর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪৫তম আবর্তনের সাবেক শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি সহ তার ভাই ও সন্তানকে গালিগালাজ করেছে অভিযুক্ত। তবে অভিযুক্ত দাবি করেছেন, ভুক্তভোগীর বক্তব্য একপাক্ষিক ও অতিরঞ্জিত।
গতকাল সোমবার, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ছাত্রী হল সংলগ্ন টারজান পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী আফসানা উর্মী জানান, তিনি তার ছোট ভাই ও আড়াই বছরের সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে মেয়েদের হল হয়ে সেন্ট্রাল ফিল্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে সামনে থাকা একটি রিকশা হঠাৎ থেমে গেলে রাস্তার বাম পাশে পানি জমে থাকায় তারা ডান দিক দিয়ে সেটিকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসেন জুনায়েদ আল ইসলাম। তার সঙ্গে এক সহপাঠী ছিলেন।
উর্মীর ভাষ্য, তাদের মোটরসাইকেলের কাছাকাছি এসে জুনায়েদ জোরে ব্রেক করেন। অতিরিক্ত গতির কারণে তার মোটরসাইকেল কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে থামে। এরপর তিনি মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে এসে তাদের পরিচয় জানতে চান। নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও জুনায়েদ তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আফসানা উর্মী বলেন, 'আমি আমার পরিচয় দিয়েছি। এরপরও আমার বাচ্চার সামনে এভাবে গালিগালাজ করেছে। আমি সিনিয়র হিসেবে জিজ্ঞেস করেছি তাঁদের কিছু হয়েছে কি না। সে উল্টো বলে, আমরা এখানে মরে যেতে পারতাম। মরে গেলে তারপর খোঁজ নিতেন?'
তিনি জানান, একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তাকে ও তার ভাইকে চলে যেতে বলেন। পরে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, জুনায়েদ খুব খারাপ ব্যবহার করেন। তাকে থামানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি ও তার সঙ্গে থাকা বান্ধবী আরও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
তবে ঘটনাটি সেখানেই শেষ হয়নি বলে অভিযোগ করেন উর্মী। তার ভাষ্য, টারজান এলাকা থেকে বের হয়ে তারা যখন শহীদ মিনারের সামনে পৌঁছান, তখন জুনায়েদ তার সঙ্গে থাকা বান্ধবীকে হলে নামিয়ে দিয়ে তাদের পিছু আসেন। সেখানে গিয়েও তিনি আবার গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় তার আড়াই বছরের সন্তানকেও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে আফসানা উর্মীর অভিযোগকে একপাক্ষিক ও অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছেন জুনায়েদ আল ইসলাম। তিনি বলেন, 'ঘটনার পর আপু আগে ফেসবুকে রিচ করেছেন বলে আমাকে ভিলেন ভাবা হচ্ছে।'
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জুনায়েদ বলেন, 'আমি রিসার্চের কাজ শেষে আমার সহপাঠীকে হলে দিয়ে আসতে যাচ্ছিলাম। উনাদের বাইকটা খুব কেয়ারলেসলি ওভারটেক করে এবং বাইকটা চালাচ্ছিল এক বহিরাগত (উর্মীর ছোটভাই)। এরপর আমি আমার বাইক ঘুরিয়ে এসে বাইকারের পরিচয় জানতে চাই। এ সময় ওই আপু আমাকে "তুই" বলে সম্বোধন করে তার সঙ্গে পরিচিত হতে বলেন। প্রথম দেখায় "তুই" বললেও আমি তা ওভারলুক করি এবং এভাবে ওভারটেক কেন করল, সেটা বলি। এমন সময় আপু আমাকে বলে, "লাগে তো নাই, মরস তো নাই"। এরপর আমাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং প্রথমে তিনি আমার বাবা-মা তুলে কথা বলেন।'
ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে টারজান এলাকায় উপস্থিত অনেক প্রত্যক্ষদর্শী মন্তব্যে জুনায়েদের আচরণের সমালোচনা করেন। তবে এ প্রসঙ্গে জুনায়েদের দাবি, মন্তব্যকারীরা ঘটনার পুরোটা দেখেননি। তিনি বলেন, 'যারা কমেন্ট করছে, তারা আসছেই বাগবিতণ্ডার শেষ দিকে। শুরু যে আপু করেছিল, তা অনেকেই দেখেনি।'
শহীদ মিনারের সামনে পুনরায় উর্মী, তার ভাই ও তার সন্তানকে গালিগালাজের অভিযোগ প্রসঙ্গে জুনায়েদ বলেন, 'আমি তাদের ক্রস করছিলাম। এমন সময় ওই আপু পিছন থেকে বলে, "কত বেয়াদব, বাবা-মা কোন শিক্ষা দেয়নাই"। এটা শোনার পর আমি আবার তাদের কনফ্রন্ট করি। সে সময় আবার একটা বাগবিতণ্ডা হয় এবং তিনি প্রথমে আমার বাবা-মা তুলে গালি দেন।'
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন আফসানা উর্মী। তিনি বলেন, 'আমি প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেব।'
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, 'আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তা প্রসেসিং চলছে। পরবর্তীতে অভিযোগ অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।'
এ বিষয়ে জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, 'আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিব।'








