চট্টগ্রাম নগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনউদ্দিনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
চট্টগ্রাম নগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনউদ্দিনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা

‎মেহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

‎চট্টগ্রামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ফেক আইডি ব্যবহার করে মানহানি, এআই প্রযুক্তিতে ভয়েস ক্লোনিং করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রচার এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ছয় জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।

‎চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল জজ আদালতে দায়ের করা ওই মামলায় চট্টগ্রাম নগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনউদ্দিনসহ ছয় জনকে আসামি করা হয়েছে।

‎মামলার বাদী হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ (৩১) অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে ফেসবুকে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে তার ছবি বিকৃত করা এবং কণ্ঠসদৃশ এআই-নির্ভর অডিও ক্লিপ তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

‎গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৪ মে এনসিপির কমিটি ঘোষণার পর থেকে পদবঞ্চিতদের একটি অংশের আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। ওই আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দুর্বল করতে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অনলাইন অপপ্রচার চালানো হয়।

‎বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, “Emil Hasan” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ভয়েস ক্লোন করে তৈরি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।

‎তিনি আরও দাবি করেন, তার কাছে থাকা ১৬ মিনিটের একটি ভিডিওতে সংশ্লিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অর্থ লেনদেন ও পরিকল্পনার প্রমাণ রয়েছে, যা তিনি আদালতে জমা দিয়েছেন।

‎বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রথমে কোতোয়ালী থানায় গেলে অভিযোগটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি এবং উভয় পক্ষকে সমঝোতার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

‎মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

‎মামলায় আসামি করা হয়েছে আরিফ মঈনউদ্দিন, আশরাফুল হক টিপু, হুজ্জাত উল্লাহ আবির, সাদিক আরমান, সজিব ভূঁইয়া ও মো. মাইনুল হোসেনকে। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি এবং একটি মোবাইল নম্বরও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

‎অভিযুক্তদের মধ্যে আরিফ মঈনউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। 

‎চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, মামলাটি গ্রহণ করে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এখনো কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়নি।

‎(সংবাদটি মামলার অভিযোগ ও বাদীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি; অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত নয়।)