চট্টগ্রাম নগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনউদ্দিনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা
মেহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ফেক আইডি ব্যবহার করে মানহানি, এআই প্রযুক্তিতে ভয়েস ক্লোনিং করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রচার এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ছয় জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল জজ আদালতে দায়ের করা ওই মামলায় চট্টগ্রাম নগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনউদ্দিনসহ ছয় জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ (৩১) অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে ফেসবুকে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে তার ছবি বিকৃত করা এবং কণ্ঠসদৃশ এআই-নির্ভর অডিও ক্লিপ তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৪ মে এনসিপির কমিটি ঘোষণার পর থেকে পদবঞ্চিতদের একটি অংশের আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। ওই আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দুর্বল করতে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অনলাইন অপপ্রচার চালানো হয়।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, “Emil Hasan” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ভয়েস ক্লোন করে তৈরি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, তার কাছে থাকা ১৬ মিনিটের একটি ভিডিওতে সংশ্লিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অর্থ লেনদেন ও পরিকল্পনার প্রমাণ রয়েছে, যা তিনি আদালতে জমা দিয়েছেন।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রথমে কোতোয়ালী থানায় গেলে অভিযোগটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি এবং উভয় পক্ষকে সমঝোতার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে আরিফ মঈনউদ্দিন, আশরাফুল হক টিপু, হুজ্জাত উল্লাহ আবির, সাদিক আরমান, সজিব ভূঁইয়া ও মো. মাইনুল হোসেনকে। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি এবং একটি মোবাইল নম্বরও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে আরিফ মঈনউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, মামলাটি গ্রহণ করে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এখনো কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়নি।
(সংবাদটি মামলার অভিযোগ ও বাদীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি; অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত নয়।)









