কালাইয়ে স্থানীয় বিরোধ দ্রুত মীমাংসায় গ্রাম আদালতের কার্যকর ভূমিকা বৃদ্ধিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই(জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে এক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালাই উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
আরো উপস্থিত ছিলেন -ডিস্ট্রিক ম্যানেজার রাজিউর রহমান রাজু, উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো: ফরিদুল ইসলাম (ফরিদ),যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: গোলাম মোস্তফা,মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান, বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম কর্মী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, গ্রাম আদালত হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ও জনবান্ধব ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্বল্প সময়ে ও কম খরচে ন্যায়বিচার পেতে পারেন। কিন্তু অনেকেই এখনো গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সুবিধা সম্পর্কে জানেন না। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন মহলকে একযোগে কাজ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে সামাজিক বিরোধ দ্রুত মীমাংসা হবে, আদালতে মামলার চাপ কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ছোটখাটো বিরোধ সময়মতো নিষ্পত্তি না হলে অনেক সময় তা বড় ধরনের সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলার সমস্যায় রূপ নেয়। গ্রাম আদালত কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দ্রুত সমাধান হবে এবং থানামুখী মামলার সংখ্যাও কমবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
ডিস্ট্রিক ম্যানেজার রাজিউর রহমান রাজু বলেন, গ্রাম আদালত শুধু বিরোধ নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা নয়, এটি গ্রামীণ সমাজে ন্যায়বিচার, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে ও স্বল্প খরচে বিচার পায়, সে জন্য গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে মানুষ আদালতমুখী না হয়ে স্থানীয়ভাবেই অনেক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে পারবে।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারণা বৃদ্ধি,উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক আলোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালত সম্পর্কে আরও সচেতন করা সম্ভব।
বক্তারা মনে করেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি হলে পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।









