ফলে ভরা আশফল বাগান উজাড়, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষক; ক্ষতির দাবি প্রায় ৪ লাখ টাকা

প্রকাশিত: ০৮ জুন ২০২৬, ১১:০১ পিএম
ফলে ভরা আশফল বাগান উজাড়, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষক; ক্ষতির দাবি প্রায় ৪ লাখ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নে একটি আশফল (লংগান) বাগানে রহস্যজনকভাবে ব্যাপক ফলঝরার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকের অভিযোগ, শত্রুতাবশত দুর্বৃত্তরা গাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করায় অপরিপক্ব ফল ঝরে পড়েছে। এ ঘটনায় কৃষক ও ফল ব্যবসায়ীর প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুশুলিয়া ইউনিয়নের তিনকড়ি গ্রামের অরুণ মণ্ডল প্রায় আট বছর আগে ১০০ শতক জমিতে ৬৮টি লংগান গাছের একটি বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তোলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি সফলভাবে বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে আসছিলেন। চলতি মৌসুমেও গাছে প্রচুর ফল ধরেছিল। পরে তিনি পুরো বাগানের ফল কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর এলাকার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের কাছে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেন।

কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করেই বাগানের গাছগুলো থেকে ব্যাপক হারে ফল ঝরতে শুরু করে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে অধিকাংশ গাছ প্রায় ফলশূন্য হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে কিছু গাছের পাতা হলদে হয়ে ঝরে যাওয়ার ঘটনাও দেখা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক অরুণ মণ্ডল জানান, কয়েকদিন আগে তার বাগান থেকে আম ও লিচু চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর গত ১ জুন থেকে তিনি আশফল গাছগুলোতে অস্বাভাবিকভাবে ফল ঝরতে দেখেন। দুই-তিন দিনের মধ্যেই প্রায় সব গাছের ফল মাটিতে পড়ে যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আট বছর ধরে অনেক কষ্ট করে বাগানটি গড়ে তুলেছি। এ বছর ফলনও খুব ভালো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন ক্ষতি মেনে নিতে পারছি না। আমার ধারণা, কেউ পরিকল্পিতভাবে গাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করেছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”

ফল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, “স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী এর আগে কম দামে বাগানটি কিনতে চেয়েছিলেন। আমি ন্যায্যমূল্যে ফল কিনে নেওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের হয়রানির চেষ্টা চলছিল। আমার সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে গাছে কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে অপরিপক্ব ফল ঝরে পড়েছে। এতে আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

স্থানীয় কৃষক শাহিন, রফিকুল ও মনিরুল বলেন, “কয়েকদিন আগেও গাছগুলো ফলে ভরে ছিল। এখন প্রায় সব ফল ঝরে পড়ে গাছগুলো প্রায় খালি হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ বাড়বে এবং কৃষকরা নিরুৎসাহিত হবে।”

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুশুলিয়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আতাহার হোসেন বলেন, “প্রাথমিকভাবে বাগান পরিদর্শন করে মনে হয়েছে, কোনো দুর্বৃত্ত চক্র গাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ করে থাকতে পারে। এর প্রভাবে অপরিপক্ব ফল ঝরে পড়েছে এবং কিছু গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।