চিরকুটে যুবকের নাম: বেগমগঞ্জে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে তোলপাড়
মোঃ মিজানুর রহমান সুমন, বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় আফসানা আক্তার রাহি (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে রাহি একটি চিরকুট রেখে গেছে, যেখানে ‘ইসমাইল’ নামে এক যুবকের নাম উল্লেখ রয়েছে। এই চিরকুট উদ্ধারের পর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো ধরনের মানসিক চাপ বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে ওই কিশোরী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম জিরতলী গ্রামের নতুন খামার বাড়ি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আফসানা আক্তার রাহি ওই গ্রামের আহসান উল্লার মেয়ে এবং স্থানীয় শামসুন্নাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় রাহির বাবা বাড়ির বাইরে এবং মা নানার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে কেবল তার বড় ভাই ও ভাবী ছিলেন। সকালের কোনো এক সময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে রাহি রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে নিজের ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। বেশ কিছুক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা রান্নাঘরে তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় রাহির লাশের পাশ থেকে একটি চিরকুট জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, চিরকুটে ‘ইসমাইল’ নামে এক যুবকের নাম স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে রাহিকে কোনো বিষয় নিয়ে মানসিক নির্যাতন কিংবা ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। তীব্র মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই রাহি আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে ব্ল্যাকমেইলের বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুজ্জামান বলেন:
"খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থল থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছি। নিহতের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুটে ইসমাইল নামের এক যুবকের নাম পাওয়া গেছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"








