পানছড়ি ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার ঝর্ণাটিলার ১০০ একরের বাগানে লাল-হলুদ রাম্বুটানের রঙিন উৎসব
বিপ্লব তালুকদার, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও মাটিরাঙা উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদ ঝর্ণাটিলায় ১০০ একরজুড়ে গড়ে ওঠা জোবায়ের এগ্রোর মিশ্র ফলদ বাগান এখন লাল-হলুদ রাম্বুটানের রঙে মুখর। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা বিদেশি এই ফল ঘিরে চলছে সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের ব্যস্ততা। চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ মেট্রিক টন রাম্বুটান বিক্রির আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বাগানটিতে প্রায় দেড় হাজার রাম্বুটান গাছের মধ্যে অর্ধেক গাছে এবার ফল এসেছে। আম-লিচুর মৌসুম শেষে এখন রাম্বুটানই হয়ে উঠেছে বাগানের প্রধান আকর্ষণ। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি রাম্বুটান ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আল আমিন হাওলাদারের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই বাগানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন মো. মেরাজুল ইসলাম (মেরাজ ডাক্তার) এবং ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে আছেন শাহাব উদ্দিন তোতা। বাণিজ্যিক ফল উৎপাদনের পাশাপাশি বাগানটি স্থানীয় অর্ধশতাধিক পরিবারের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, জোবায়ের এগ্রোতে আমি সরেজমিনে গিয়েছি। রাম্বুটান বাগানে ভালো ফলন হয়েছে। যা এলাকার চাহিদা মিটিয়ে সমতলেও রপ্তানি করা যাবে। পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া রাম্বুটান চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এ ফলের চাষ দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশে রাম্বুটান চাষের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।"
বাগানের তত্ত্বাবধায়ক মো. মেরাজুল ইসলাম (মেরাজ ডাক্তার) বলেন, "বাজারজাতকরণে কিছু সমস্যা থাকায় বাগান থেকেই ৮০০-১,০০০ টাকায় রাম্বুটান বিক্রি করছি। দেশবাসী আমাদের ফল কিনলে স্থানীয় অসহায় মানুষেরও উপকার হবে।
জোবায়ের এগ্রোর ম্যানেজার শাহাব উদ্দিন তোতা বলেন, "আম-লিচুর মৌসুম শেষে এখন রাম্বুটান বিক্রি চলছে। এবার ফলন ভালো হয়েছে, তাই পাইকারি ও খুচরা—দুইভাবেই বিক্রি করছি।









