হুথি হামলা ঠেকাতে সৌদিতে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
হুথি হামলা ঠেকাতে সৌদিতে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন শুরু করেছে ফরাসি সরকার।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাসকাল কনফেরেক্স।

তিনি বলেন, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা শুধু দেশটির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং এর প্রভাব ফ্রান্সের ওপরও পড়তে পারে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে গুরুতর সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে ইয়ানবু বন্দরকে পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্স সহযোগিতা করবে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা মোতায়েন করা হচ্ছে।

এর আগে গত মাসে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন, লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর ইয়ানবুর নিরাপত্তা জোরদার করতে সৌদি আরবে সেনাসদস্য ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানো হবে। এর মূল উদ্দেশ্য ইরান যুদ্ধের প্রভাব সীমিত রাখা।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইয়ানবুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানো হচ্ছে। তবে এই মোতায়েনের মাধ্যমে ফ্রান্স কোনো সংঘাতে জড়াচ্ছে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পর সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই বন্দর ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি রপ্তানি করতে পারছে সৌদি আরব।

গত সেপ্টেম্বরে ইরাকে অবস্থিত ইরানপন্থী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত সপ্তাহে হুথিদের হামলায় ইয়ানবুর ‘ইয়াসরেফ’ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে শোধনাগারটির কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় সৌদি আরব। ধারাবাহিক এসব হামলায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে এবং ডিজেল সরবরাহের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় ফ্রান্সের রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই অঞ্চলে কিছু ফরাসি যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যে অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদন কেন্দ্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৭৫০ মাইল দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আশির দশকের শুরুর দিকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।


সূত্র: এএফপি, ফার্স্টপোস্ট


এমকে/বিডিমেইল২৪