বাজারে মাছ-সবজির চড়া দাম, বেড়েছে ডালের দামও

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
বাজারে মাছ-সবজির চড়া দাম, বেড়েছে ডালের দামও

সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাজারে মাছ ও আগাম শীতকালীন সবজির দাম চড়া। এর সঙ্গে কয়েক ধরনের ডালের দামও বেড়েছে। তবে ডিম, মুরগি ও ভোজ্যতেলের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে চাপে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।


বাজারে রুই-কাতলা থেকে শুরু করে তেলাপিয়া, কৈ, পাঙাশ ও ছোট মাছ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। ওজনভেদে রুই ও কাতলা মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়ার দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। চাষের কৈ ও পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে কেজি ২০০ টাকা বা তার বেশি দরে। অন্যদিকে, শিংসহ ছোট মাছের দাম পড়ছে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।


চড়া সবজির বাজার


আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে অন্তত ৫০ টাকায়। শিমের কেজি ১২০ টাকা এবং আকারভেদে প্রতিটি লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা।


এ ছাড়া পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ১২০ টাকা এবং করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি কাঁচা কলার দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা এবং পটল, ঢেঁড়স ও মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


বাজারে টমেটোর কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। কুমড়া ৪০ থেকে ৫৫ টাকা, বরবটি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।


বেড়েছে ডালের দাম


সবজির পাশাপাশি কয়েক ধরনের ডালের দামও বেড়েছে। ছোলা, বুট, মুগ ও মটর ডালের দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে। এতে দৈনন্দিন খাবারের খরচ নিয়ে বাড়তি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ।


এদিকে, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চালের দামে ভিন্নতা দেখা গেছে। ২৮ ও পাইজাম চাল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং স্বর্ণা চাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাজিরশাইল ও মিনিকেট চালের দাম প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৯০ টাকা। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে সুগন্ধি চিনিগুড়া চালের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমেছে।


 স্থিতিশীল ডিম, মুরগি ও তেলের দাম


ডিমের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি ডজন লাল ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, সাদা ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির দামও রয়েছে প্রায় অপরিবর্তিত।


ভোজ্যতেলের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৪ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা এবং পাম তেল ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


সব মিলিয়ে মাছ, চাল ও সবজির চড়া দামে নিত্যদিনের বাজার করতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।


এমকে/বিএম২৪