চীনের বাজার ধরতে ফল রপ্তানিতে বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
চীনের বাজার ধরতে ফল রপ্তানিতে বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ

সূত্রঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক



চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে ফল ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে দেশটির বাজারে আরও সক্রিয়ভাবে প্রবেশের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে আয়োজিত হতে যাওয়া ‘মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’-এ দ্বিতীয়বারের মতো সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ২১ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া এই উৎসবকে চীনা বাজারে বাংলাদেশের ফল ও কৃষিপণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ক্রেতা ও ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


উৎসবে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাজা ও শুকনো ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রদর্শন করবে। এর মাধ্যমে চীনা আমদানিকারক, ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা। পাশাপাশি পণ্যের মান, বাজারচাহিদা, মূল্য এবং সম্ভাবনা সম্পর্কেও সরাসরি ধারণা নেওয়া যাবে।


মেকং-লানচান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কৃষি বাণিজ্য বাড়ানো, ফল উৎপাদন ও রপ্তানি সহযোগিতা জোরদার এবং নতুন বাজার সৃষ্টি করাই উৎসবটির অন্যতম লক্ষ্য। কুনমিংয়ের টোংদে কুনমিং প্লাজায় আয়োজিত এবারের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ফল প্রদর্শন, পণ্য বিক্রয়, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং বাজার অনুসন্ধানের সুযোগ থাকছে।


চীনের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও চীনের ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। এর আওতায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ইউনানের নির্দিষ্ট এলাকায় ভাড়ামুক্ত বন্ডেড গুদাম, অফলাইন প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং অনলাইন কমোডিটি প্ল্যাটফর্মে পণ্য প্রদর্শনের সুবিধা পাচ্ছে। দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের ব্যবস্থাও এর অন্তর্ভুক্ত।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনের মতো বড় বাজারে ফল রপ্তানি বাড়াতে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি করলেই হবে না। বাজারে প্রবেশের সুযোগ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও দ্রুত কাস্টমস প্রক্রিয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইউনানে গুদাম ও প্রদর্শনী সুবিধা থাকায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা নিয়মিতভাবে চীনা ক্রেতাদের কাছে পণ্য তুলে ধরার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।


বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন ফল চীনের বাজারে সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশটির বিপুল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদা বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের জন্য বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তাজা ফলের পাশাপাশি শুকনো ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে দেশের কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্যও বাড়বে।


এর আগে প্রথমবারের মতো মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। এবার দ্বিতীয়বারের অংশগ্রহণকে তাই কেবল একটি বাণিজ্য মেলায় অংশ নেওয়া হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বরং চীনের বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের স্থায়ী অবস্থান তৈরির ধারাবাহিক প্রচেষ্টা হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা হচ্ছে।


রপ্তানিকারকদের মতে, চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়লে কৃষকদের উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রপ্তানিযোগ্য ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, মান নিয়ন্ত্রণ, উন্নত প্যাকেজিং ও সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের পরিধি বাড়ানো সম্ভব। এতে কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি আয়ের নতুন উৎসও তৈরি হতে পারে।


তবে চীনের বাজারে বাংলাদেশের ফলের অবস্থান শক্তিশালী করতে মান, নিরাপদ খাদ্য, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ফলের গুণগত মান পরীক্ষা, সংরক্ষণ ও পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নও প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানো গেলে চীনের বিশাল বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের দ্বিতীয়বারের অংশগ্রহণ সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন ফল ও কৃষিপণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির সুযোগও তৈরি হচ্ছে। ফলে পোশাকনির্ভর রপ্তানির বাইরে কৃষিপণ্যকে নতুন রপ্তানি খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠায় চীনের বাজার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।




এমকে/বিএম২৪