কলকাতার হোটেলে আগুন: ইজারাদার গ্রেপ্তার, আটক ২ কর্মী

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
কলকাতার হোটেলে আগুন: ইজারাদার গ্রেপ্তার, আটক ২ কর্মী

সূত্রঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নয়জন নিহতের ঘটনায় হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের দুই কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।


ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার ভোরে হোটেলটিতে আগুন লাগে। পরে কলকাতার এন্টালি মেইন মার্কেট এলাকা থেকে হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।


অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশ জানায়, বুধবার রাত প্রায় ২টার দিকে নিউমার্কেট থানায় হোটেলে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার ব্রিগেড ও সিইএসসি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে।


দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা হোটেল থেকে প্রায় ৬০ জনকে নিরাপদে বের করে আনেন। এ সময় নয়জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু ছিলেন। পরে তাঁদের মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।


পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল নিরাপদ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


এদিকে বাংলাদেশের কলকাতা উপ-হাইকমিশন জানিয়েছে, নিহত নয়জনের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। ওই পরিবারের দেবাশীষ দত্ত ‘আজকের পত্রিকা’র কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। নিহত পঞ্চম বাংলাদেশি নাগরিকের বাড়ি ঢাকায়।


নিহতদের মধ্যে আরও একজন ভারতীয় নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে উপ-হাইকমিশন। তাঁদের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার একটি হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে।


অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, কলকাতার হোটেলগুলো বৈধ অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে রাজ্য সরকার একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করছে।


অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ওই ভবনের তিনটি তলায় প্রায় ১০টি হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল। কক্ষগুলোও ছিল ছোট। মানুষের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে একই ভবনে এভাবে একাধিক হোটেল পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।


অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও হোটেল পরিচালনায় কোনো ধরনের অনিয়ম ছিল কি না, তা জানতে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



এমকে/বিএম২৪