লভ্যাংশের নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, মহানন্দা এগ্রোকেয়ারের এমডি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
লভ্যাংশের নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, মহানন্দা এগ্রোকেয়ারের এমডি গ্রেপ্তার

রাজশাহী ব্যুরো:

রাজশাহীতে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় ‘মহানন্দা এগ্রোকেয়ার লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে একই অভিযোগে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রী জেসমিন আরা খাতুনও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অংশীদারত্ব ও লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পরে তা ফেরত না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়।

বুধবার দিবাগত রাতে রাজশাহী নগরের উপশহরের ২ নম্বর সেক্টরের একটি ভাড়া বাসা থেকে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুমা মুস্তারী।

তিনি বলেন, আমিনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জেসমিন আরা খাতুনের বিরুদ্ধে রাজশাহীতে ছয়টি এবং নাটোর, যশোর ও বগুড়ায় একটি করে চেক জালিয়াতি, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। 

অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায় অংশীদার করা কিংবা নির্ধারিত লভ্যাংশ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। পরে প্রমাণ হিসেবে চুক্তিপত্র ও চেক দেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ বা অংশীদারত্ব দেওয়া হয়নি। বরং টাকা ফেরত চাইলে অনেককে মামলার ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

রাজশাহীর শিল্পনগরের বি-৩২৭ নম্বরে মহানন্দা এগ্রোকেয়ার লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় থাকলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ রয়েছে। ভবনের মালিকও প্রতারণার অভিযোগ এনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়েছেন।

এর আগে গত ১২ এপ্রিল রাতে একই মামলায় কোম্পানির চেয়ারম্যান জেসমিন আরা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৭ দিন পর তিনি আদালত থেকে মুচলেকায় জামিন পান। পরে তিনি কয়েকজন ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।

ওই মামলার প্রধান আসামি আলমগীর কবিরসহ অন্য আসামিরাও মহানন্দা এগ্রোকেয়ারের চেয়ারম্যান ও এমডির বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে পৃথক মামলা করেছেন।

জেসমিন আরার গ্রেপ্তারের সময় তাকে মারধর করা হয়েছিল—এমন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন দেখেনি। তবে অসুস্থতার কথা জানালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা শেষে আবার পুলিশের হেফাজতে ফিরিয়ে আনা হয়।

অন্যদিকে গ্রেপ্তারের আগে আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে ব্যবসার উদ্দেশ্যে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেন, বিনিয়োগকারীরা পরে ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাননি। তিনি ধীরে ধীরে টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন, কিন্তু তার বিরুদ্ধে দায়ের করা চেক জালিয়াতির মামলাগুলোতে টাকার পরিমাণ অতিরঞ্জিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।