নিখোঁজ যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার: পরকীয়া ও টাকা হাতিয়ে নিয়ে হত্যার পর কংক্রিটের নিচে গুম
আতিকুজ্জামান, (শার্শা) যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শা উপজেলায় নিখোঁজের এক মাস পর ইকরামুল হোসেন (২২) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘাতকের নিজ বাড়ির লাকড়ি রাখার ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে কংক্রিটের ঢালাইয়ের নিচ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইকরামুল হোসেন বেনাপোল পোর্ট থানার দক্ষিণ বারপোতা গ্রামের আঃ রশিদের ছেলে। গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তার সন্ধান না পেয়ে ভিকটিমের পিতা গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে শার্শা থানায় মামলা (নং-১৯) রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই চঞ্চল রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আজ (৯ মে) তিন এজাহারভুক্ত আসামীসহ সন্দিগ্ধ আসামী আল-ফরহাদকে (২৮) আটক করে। আটকরা হলেন— মুন্নী আক্তার (৩৬), কাকলী আক্তার (৩৪) ও ফজলু মোড়ল (৫২)।
জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আটক আল-ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৭টার দিকে বসতপুর (পূর্বপাড়া) এলাকায় তার নিজ বাড়ির লাকড়ি রাখার ঘরের মেঝে খুঁড়ে ইকরামুলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায় নিহত ইকরামুল গ্রেফতারকৃত মুন্নী আক্তারের আপন ফুফাতো ভাই। মুন্নী আক্তারের প্রথম স্বামী থাকা সত্ত্বেও তিনি ইকরামুলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং প্রায় দেড় মাস আগে তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর মুন্নী ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন কৌশলে ইকরামুল ও তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১০ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
গত ৮ এপ্রিল টাকা ফেরত দেওয়া ও আপস-মীমাংসার কথা বলে ইকরামুলকে আল-ফরহাদের বাড়িতে ডেকে আনা হয়। সেখানে লাচ্ছির সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করা হয়। এরপর গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন,আটক আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘরের মেঝে খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক দম্পতিসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।








