টেকনাফ–গোদাগাড়ী মাদক নেটওয়ার্কে সাবেক চেয়ারম্যানের নাম, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
টেকনাফ–গোদাগাড়ী মাদক নেটওয়ার্কে সাবেক চেয়ারম্যানের নাম, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো:

 রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানাকে ঘিরে সীমান্তভিত্তিক মাদক সিন্ডিকেট, ইয়াবা সরবরাহ এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সূত্র, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য ও অতীতের একাধিক মামলার তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও এসব বিষয়ে এখনো কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি। এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।


কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকার কথিত মাদক কারবারি জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে সোহেল রানার বিরুদ্ধে। 

টেকনাফ থেকে আসা মাদকের চালান গোদাগাড়ী সীমান্ত হয়ে রাজশাহীসহ পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হতো।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, সোহেল রানার বিরুদ্ধে অতীতে মাদক, নাশকতা ও অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হয়ে নাটোর সদর থানার একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হন তিনি। এছাড়া ২০১৩ সালে মারামারি এবং ২০১৭ সালে নাশকতার মামলাও তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি মামলায় তিনি কারাগারেও ছিলেন।


এদিকে, গত বছরের মে মাসে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সোহেল রানার বাবা মজিবুর রহমানকে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করে। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার উজানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।


স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় বাসচালক ছিলেন মজিবুর রহমান এবং সোহেল রানা প্রায় ১৫ বছর আগে বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় এলাকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজশাহী নগরীতে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফ্ল্যাট, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং গোদাগাড়ীতে প্রায় ২০ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। যদিও এসব সম্পদের উৎস নিয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করেছে, সোহেল রানার মামা গোলাম রাব্বানী ও শ্যালক সবুজ অতীতে পৃথক ঘটনায় এক কেজি করে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ঘটনার সঙ্গে সোহেল রানার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিশেষ অভিযানের সময় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি।


এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


গোদাগাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা আব্দুস সালাম বলেন, “সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।”


গোদাগাড়ী সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই উঠুক না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলে মাদকের বিস্তার রোধ করা সহজ হবে।