ঝিনাইদহে ফেসবুক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কৃষক দল নেতাকে পিটিয়ে হ/ত্যা

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম
ঝিনাইদহে ফেসবুক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কৃষক দল নেতাকে পিটিয়ে হ/ত্যা

/মোঃ আসাদুজ্জামান,  বিশেষ প্রতিনিধি :

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ফেসবুক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আবুল কাশেম (৫০) নামে এক কৃষক দল নেতাকে পি*টিয়ে হ*ত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) আনুমানিক রাত ৮টার দিকে উপজেলার ৪নং কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের কুল্লাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কাশেম কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বরত ছিলেন বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকালে স্থানীয় জামায়াত নেতা, প্রবাসী মোতালেব হোসেন তার সন্তানের জন্ম উপলক্ষ্যে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ফেসবুকের সেই পোস্টে যুবদল নেতা সাইদুর রহমান বিটু মন্তব্য করেন। পরে নিহত আবুল কাশেমের ভাতিজা লিমন ওই মন্তব্যের জবাবে পাল্টা মন্তব্য করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যায় এটি নিয়ে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে চাচাতো ভাই আব্দুল আজিজের সাথে বিবাদে জড়ান নিহত আবুল কাশেম। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে আবুল কাশেমকে পিটিয়ে গুরু*তর আহত করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এবিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. এম. এ. মজিদ বলেন,

"এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। জামায়াত এবং ফ্যাসিস্টরা মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। জামায়াত ও আওয়ামীলীগ নির্বাচনের আগে থেকেই ঐ এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছে। তারই জেরে এই হত্যাকাণ্ড।"

সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরও বলেন, 

"মানুষ খুন জামায়াত ও আওয়ামীলীগের নেশা এবং পেশা। এর আগে গান্নায় তারা আমাদের একজন নেতাকে হত্যা করলো। আজকে আরেকজনকে। তারা রক্তের সন্ত্রাস করে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রশাসনের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের অতি দ্রুত গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে, আমরাও পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হবো।"

এদিকে, কৃষক দল নেতা আবুল কাশেম নিহতের ঘটনায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসেন বলেন, 

"কৃষক দল নেতা আবুল কাশেম নিহতের ঘটনায় জামায়াতের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি একটি পারিবারিক বিরোধ থেকে হয়েছে। বিরোধের জেরে সংঘর্ষ চলাকালীন তিনি অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।"

এবিষয়ে ঝিনাইদহ-২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুব্রত কুমার দে বলেন,

"আবুল কাশেমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে বাহ্যিকভাবে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বাকিটা ময়নাতদন্তের পর বোঝা যাবে।"

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া জানান,

"একটি ফেসবুক স্টাটাসে মন্তব্য করা নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তবে, আমাদের কাছে এখনও কোন অভিযোগ আসেনি। ঘটনার সঠিক তদন্তে আমরা কাজ করছি।"

অপরদিকে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে কঠোর বার্তা। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এছাড়াও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা।

এদিকে, কৃষক দল নেতা আবুল কাশেম নিহতের ঘটনায় অত্র এলাকায় থমথমে পরিবেশ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।