রাজশাহীতে সরকারি রাস্তা দখল নিয়ে সংঘর্ষ, সংবাদকর্মীসহ আহত ৩

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
রাজশাহীতে সরকারি রাস্তা দখল নিয়ে সংঘর্ষ, সংবাদকর্মীসহ আহত ৩

সংগৃহীত

আবু কাওসার মাখন, বিশেষ প্রতিনিধি


রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার ছোটবনগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকায় সরকারি রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক গৃহবধূ ও এক সংবাদকর্মীসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় গৃহবধূর স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়া এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী মো. সুমন।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে মো. মুনসুর (৪৬), গাফ্ফার (৫৬), শান্তা (২৮), আজিজুল (৪৬), শাকিলা (৩৫) ও মো. মাজদারের (৫২) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির পাশের সরকারি রাস্তার ওপর প্রাচীর নির্মাণ করে দখল করে রেখেছিলেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় ওই প্রাচীর অপসারণ করা হয়।


এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে রাস্তা দখল নিয়ে সুমনের সঙ্গে অভিযুক্তদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা উত্তেজিত হয়ে গালাগাল শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করায় সুমনের স্ত্রী সোনিয়া খাতুন টুম্পাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে শান্তা ও শাকিলা তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর কান থেকে আনুমানিক তিন আনি ওজনের একটি স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দুলটির আনুমানিক মূল্য ১৬ হাজার টাকা।


টুম্পাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সুজন (৩০) নামে এক যুবককে ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাঁর কপালে কোপ লেগে গুরুতর জখম হয়। পাশাপাশি মো. মাজদার বাঁশের লাঠি দিয়ে সুজনকে এবং অন্য অভিযুক্তরা প্রতিবেশী আব্দুল কুদ্দুসকে (৬৬) মারধর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।


পরে স্থানীয় লোকজন আহত সুজন ও আব্দুল কুদ্দুসকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।


ভুক্তভোগী ও সংবাদকর্মী মো. সুমন বলেন, “আমি একজন সংবাদকর্মী। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সরকারি রাস্তা দখলের বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা বিষয়টি মেনে না নিয়ে আমার পরিবার ও প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালান।”


তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার ৪ নম্বর অভিযুক্ত আজিজুল। তিনি বলেন, তাঁর ভাইয়ের জায়গায় একটি সীমানাপ্রাচীর ছিল। সুমনের লোকজন তাঁদের না জানিয়েই সেটি ভেঙে ফেলেন। তিনি বাইরে ছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে উল্টো তাঁদের মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে লিখিত এজাহার পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এমকে/বিএম২৪