সাংবাদিক এ ইউ এম ফখরুদ্দীনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ
সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
খ্যাতিমান সাংবাদিক এ ইউ এম ফখরুদ্দীনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর)। ২০২০ সালের এই দিনে ৭৫ বছর বয়সে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
১৯৫৮ সালে ‘কচি-কাঁচার আসর’-এর আহ্বায়ক হিসেবে সংবাদমাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন ফখরুদ্দীন। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন খ্যাতনামা দৈনিক দ্য পাকিস্তান অবজারভার ও দ্য মর্নিং নিউজ-এ অসংখ্য নিবন্ধ লেখেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত লন্ডনের দ্য ডেইলি মিরর-এর সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন তিনি।
তার সাংবাদিকতা জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ছিল ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নিয়ে কাজ করা। প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক জন পিলজারের বাংলাদেশে অন্যতম সহযোগী হিসেবে দুর্ভিক্ষের মানবিক বিপর্যয় ও বাস্তবতা তুলে ধরতে ভূমিকা রাখেন ফখরুদ্দীন।
বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের মানবিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে জন পিলজারের তথ্যচিত্র অ্যান আনফ্যাশনেবল ট্র্যাজেডি ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি সম্প্রচারিত হয়। ওই তথ্যচিত্রে ফখরুদ্দীনের বক্তব্যের দৃশ্যও ধারণ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের বাস্তবতা তুলে ধরতে তথ্যচিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্নাতক সম্পন্ন করার আগেই ফখরুদ্দীনের বাংলা অনুবাদে শেক্সপিয়রের ‘সনেট’ প্রকাশিত হয়। জন পিলজার তার বিখ্যাত হিরোজ গ্রন্থে ফখরুদ্দীনকে নিয়ে প্রায় তিন পৃষ্ঠা লিখেছেন। বইটিতে তার একটি ছবিও সংযুক্ত করা হয়। গ্রন্থটি ১৯৮৬ সালে লন্ডনের জনাথন কেপ এবং ১৯৮৯ সালে প্যান বুকস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত হয়।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংগীতেও অবদান ছিল ফখরুদ্দীনের। তার লেখা দেশাত্মবোধক গান ‘ও আমার বাংলা মা, তোর আকুল করা রূপের সুধায় হৃদয় আমার যায় জুড়িয়ে’ ১৯৭২ সালে রেকর্ড করা হয়। গানটি দেশে-বিদেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সাপ্তাহিক হলিডে-এর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এমকে/বিএম২৪








