৫ শতাংশে নয়, ন্যূনতম ১০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া চান শিক্ষকরা: আলোচনার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০২:৪০ পিএম
৫ শতাংশে নয়, ন্যূনতম ১০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া চান শিক্ষকরা: আলোচনার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার
স্টাফ রিপোর্টার:
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া নিয়ে সরকার ও শিক্ষকদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় যেখানে ৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে শিক্ষকরা দাবি করছেন ন্যূনতম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে। এ নিয়ে চলমান অচলাবস্থা ও আন্দোলনের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার।

আজ (১৬ অক্টোবর) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,

> “সমাধান যদি আমাদের হাতে থাকতো, আমরা অবশ্যই করতাম। তাদেরকে বলেছি, আসুন আমরা আলাপ করি। সমস্যা আমরা অবশ্যই সমাধান করব। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে বাজেট।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা পূর্বেও বিভিন্ন সময় আন্দোলন করেছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা হয়েছে।

> “যতবারই তারা আসতে চেয়েছেন, ততবারই তাদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত ছিল। প্রথমে দাবি ছিল ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা করার জন্য। আগের মন্ত্রীর সময়েও বিষয়টি উত্থাপন হয়েছিল। যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দেয়।”

অর্থ মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন বলেন,

> “উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেই ডিও লেটার পাঠানো হয়েছিল। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, বাড়ি ভাড়াটা যেন শতাংশ ভিত্তিক হয়। এরপর আমরা এমন অনুরোধ জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।”

তিনি জানান, ৫০০ টাকা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারির আগেই শতাংশভিত্তিক বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।

> “৫ অক্টোবর প্রজ্ঞাপনের পর আমরা পুনর্বিবেচনার আহবান জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। আমরা প্রতি মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। অর্থ বিভাগের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ হচ্ছে, অর্থ উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে।”
শিক্ষা সচিব আরও বলেন,
> “বাজেটের মধ্যে যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করছি। তাদের পক্ষ থেকেও সংবেদনশীলতা আসছে। শতাংশে আসাটাও একটি বড় অগ্রগতি। ভবিষ্যতে এটা ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্তও যেতে পারে। জাতীয় বেতন স্কেলেও সংশোধন হবে। শিক্ষা খাতে সংস্কারের প্রভাব দেখতে হয়তো আরও কিছুটা সময় লাগবে।”
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের আন্দোলনের কারণে দেশের অনেক স্থানে শিক্ষা কার্যক্রম আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।