হিজাব নিয়ে কটাক্ষের প্রতিবাদে চবি নারী শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন কর্তৃক হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করায় প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছে সর্বস্তরের নারী শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের নারী শিক্ষার্থী” ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর নবনির্বাচিত ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক নাহিমা আক্তার দীপা, সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা,চাকসুর নবনির্বাচিত সহ দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত,বেগম খালেদা জিয়া হল সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নিশাত সাল সাবিল, বিভিন্ন হলের প্রতিনিধি ও অন্যান্য নারী শিক্ষার্থীরা।
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসুর) নবনির্বাচিত সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত বলেন "একজন শিক্ষক, যিনি সমাজের পথপ্রদর্শক হওয়ার কথা, তিনি যখন নারীদের পোশাক (হিজাব) নিয়ে বিদ্রূপ করেন, তখন তা একটি পুরো শ্রেণিকে, একটি পরিচয়কে, একটি বিশ্বাসকে অপমানিত করে।
আজকের এই প্রতিবাদ কেবল একজন শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে নয়। আমাদের প্রতিবাদ সেই মানসিকতার বিরুদ্ধে, যা একজন শিক্ষকের কণ্ঠে বিদ্বেষ জাগায়, একজন নারীর পোশাক নিয়ে উপহাস করতে শেখায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গাকে বৈষম্যের জায়গায় পরিণত করে।
আমরা চাই, আমাদের হিজাবী বোনেরা হোক গর্বিত, নিরাপদ ও মর্যাদাবান।আমরা ন্যায়ের পক্ষে, সম্মানের পক্ষে, মর্যাদার পক্ষে দাঁড়িয়েছি।
চাকসু নবনির্বাচিত সহ- ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গনযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক যেরকম যেমন্তব্য করেছেন এটা সম্পুর্ন নারীর প্রতি অবমাননা এবং নারীর মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করে। তিনি পোশাকের স্বাধীনতা চেয়েছেন অথচ একজন শিক্ষার্থীর বোরকা পরার যে স্বাধীনতা এটি তিনি মানতে পারেন না। আমরা মনে করি এরকম দ্বিচারিতামূলক আচরণ শিক্ষাঙ্গনে ভারসাম্য বজায় রাখেনা।
ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট ২০২৪-২৫শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাওফিকা রহমান বলেন,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী নাম অনিন্দিতা সরকার প্রথা হিজাবের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন,হিজাবি বোনদের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা বলেছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, আমাদের প্রতিনিধিরা অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু আদৌ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কিনা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
বক্তারা দ্রুত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ।
একই সাথে চবি ক্যাম্পাসে নারীদের মর্যাদা যেন ক্ষুন্ন না হয় এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে আহ্বান জানান।









