হার্ট অ্যাটাক, ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ
স্পোর্টস ডেস্ক:
বাংলাদেশ ক্রিকেটের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব, বিসিবির সহ-সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ হার্ট অ্যাটাক করেছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানা গেছে।
রবিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকেলে এনজিওগ্রাম করা হয়। এনজিওগ্রামে তার হৃদপিণ্ডে একটি ব্লক ধরা পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে জরুরি ভিত্তিতে হার্টে একটি রিং স্থাপন করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রিং পরানোর পর তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
এদিকে বিসিবির আয়োজনে আজ ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে দিনব্যাপী ক্রিকেট কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেননি ফারুক আহমেদ। অনুষ্ঠানে তার অনুপস্থিতি নিয়ে শুরুতে উদ্বেগ দেখা দিলেও পরে তার অসুস্থতার খবর নিশ্চিত হয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন ফারুক আহমেদ। গত ৬ অক্টোবর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট নাজমুল হাসান পাপনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফারুক। প্রায় ৯ মাস তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। বিসিবিতে প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন প্রধান নির্বাচক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
খেলোয়াড়ি জীবনে ফারুক আহমেদ ছিলেন দেশের অন্যতম সফল ব্যাটার। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলেছেন তিনি। ১৯৯৪ সালের আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন এবং দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার অধীনে থাকা অনেক খেলোয়াড়ই পরবর্তীতে জাতীয় দলের ভিত্তি শক্ত করতে বড় ভূমিকা রাখেন।
তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রিকেট বোর্ড, সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার, কর্মকর্তাসহ ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সবাই তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান—পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে পরে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফারুক আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকেও সকলের দোয়া কামনা করা হয়েছে।









