সরকারের পারফরম্যান্স আমাকে হতাশ করেছে: বাঁধন

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৩৩ পিএম
সরকারের পারফরম্যান্স আমাকে হতাশ করেছে: বাঁধন

ডেস্ক রিপোর্ট:

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের শুরু থেকেই রাজপথে সরব ছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। কখনো ফেসবুকে নিজের অবস্থান জানিয়ে, কখনো দৃশ্যমাধ্যম শিল্পীসমাজের ব্যানারে রাজপথে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি তুলেছিলেন একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সাম্যের বাংলাদেশের।

তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর দেশের প্রতি বাঁধনের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে বাস্তবতা সেই স্বপ্নকে অনেকটাই নিভিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বাঁধন জানান, গত এক বছরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তাকে হতাশ ও ব্যথিত করেছে।

‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি লজ্জার, স্বপ্ন ভেঙে গেছে’

সাক্ষাৎকারে বাঁধন বলেন,

> “জুলাইয়ে যারা রাজপথে ছিলাম, একেকজন একেক ইস্যুতে মাঠে নেমেছিল। আমি চেয়েছিলাম সাম্যের বাংলাদেশ, মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়তে। এটা ছিল একটা ঐতিহাসিক সুযোগ। কিন্তু সত্যি বলতে, হয়তো আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। আমরা একটা দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে বাস করি, যেখানে ভালো কাজ করা সহজ নয়।”

তিনি আরও যোগ করেন,

> “মব কালচার, নারীর প্রতি বিদ্বেষ—সবকিছুই ভয়াবহভাবে বেড়েছে। কোথাও ভাস্কর্য ভাঙা হচ্ছে, কোথাও মাজার বা স্থাপনা ধ্বংস করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার অবস্থা হতাশাজনক। এসব আসলে লজ্জার ও দুঃখের। যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেটা এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে মনে হয়। সরকারের পারফরম্যান্স আমাকে আনকমফোর্টেবল করেছে। ডিজহার্টেড (হতাশ) হয়েছি।”

‘ডানপন্থার উত্থান ও নারীর প্রতি বৈষম্য বাড়ছে’

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং নারীদের প্রতি বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন,

> “ডানপন্থা বলতে যা বুঝি—যারা এক্সট্রিমিস্ট বা অন্ধবিশ্বাসী। এটা নতুন নয়, আগেও ছিল। যেমন হেফাজতে ইসলাম নামের সংগঠনটি গঠিত হয়েছিল। নারীদের অসম্মান, সাংস্কৃতিক বাধা—এগুলোও নতুন কিছু নয়। কিন্তু এখন বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসছে।”

তিনি আরও বলেন,

> “আমি এসব একদমই একসেপ্ট করি না। আমি চাই পূর্ণ স্বাধীনতা। প্রতিটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। আমি যে বিপ্লব করেছিলাম, সেই আশাতেই করেছিলাম—একটা মানবিক, সমতার বাংলাদেশ গড়ার আশায়।”

এক বছরের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও সামগ্রিকভাবে মানুষ স্বপ্নভঙ্গের হতাশায় ভুগছে বলে মন্তব্য করেন বাঁধন। তার মতে, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আন্দোলনের চেতনা অর্থহীন হয়ে পড়বে।

> “মানুষ এখন ভয়, অনিশ্চয়তা আর বিভাজনের মধ্যে আছে। আমি সেই বাংলাদেশ চাইনি।” — বলেন আজমেরী হক বাঁধন।