শিক্ষক অবরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দূত হিসেবে গিয়ে তোপের মুখে জুনায়েদ সাকি ও মজিবুর রহমান মঞ্জু
মোঃ জাহেরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের তিন দফা দাবিতে শাহবাগে চলমান অবরোধস্থলে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষকরা তখন ‘ভুয়া, ভুয়া, দালাল’ স্লোগান দিতে থাকেন, যার মধ্যে সাকি ও মঞ্জু কিছুক্ষণ অবস্থান করলেও পরে স্থান ত্যাগ করেন।
আলোচনায় অস্বীকৃতি, উত্তেজনা বাড়ে:
ঘটনাস্থলে এসে জুনায়েদ সাকি ও মজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, তারা শিক্ষা উপদেষ্টা সি আবরারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন।
মঞ্জু বলেন,
> “আমরা শিক্ষা উপদেষ্টা সি আবরারের পক্ষ থেকে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি। আমরা আপনাদের চূড়ান্ত কথা ওনাদের জানাতে চাই।”
তবে আন্দোলনরত শিক্ষকরা মাইকে জানান, তারা আলোচনায় বসবেন না—
> “২০ পার্সেন্ট চূড়ান্ত, আর কীসের কথা।
এ সময় শিক্ষকরা একযোগে ‘বিশ পার্সেন্ট, বিশ পার্সেন্ট’ স্লোগান দিতে থাকেন।
সাকির বক্তব্য: “প্রস্তাব না শুনলে দাবি জানিয়ে দেব”
উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলে জুনায়েদ সাকি মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলেন,
> “আপনাদের তিন দফা দাবি আমরা শুনেছি। জনসমাবেশে তো কথা হতে পারে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থা কী জানতে হবে। সরকারের দাবি কী শুনবেন, সরকারের বাস্তবতা কী সেটা জানবেন। সরকারের প্রস্তাব তো শুনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
> “আমরা রাজনীতি করি—আমি গণসংহতি আন্দোলন করি, মঞ্জু ভাই এবি পার্টি করেন। আপনাদের আন্দোলনের ব্যাপারে আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি যৌক্তিক সমাধানের জন্য। কিন্তু আপনারা যদি আলোচনায় না বসেন, তাহলে আপনাদের দাবি আমরা জানিয়ে দেব।”
ফোন হারানো ও স্থান ত্যাগ:
ঘটনার একপর্যায়ে ঘোষণা দেওয়া হয়
> “সাকি ভাইয়ের ফোন চুরি হয়ে গেছে।”
এরপর তারা টিএসসির দিক দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম বলেন,
> “পুলিশ আমাদের অনুরোধ করেছে যেন আমরা শহীদ মিনারে যাই। তবে আমরা এখনও কোনো আশ্বাস পাইনি। আমাদের কর্মসূচি চলবে।”
অবরোধে স্থবির শাহবাগ:
তিন দফা দাবিতে শিক্ষকদের অবরোধে শাহবাগ মোড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের এলাকা—বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলামোটর ও মতিঝিলমুখী সড়কেও যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. বাড়িভাতা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি,
২. চিকিৎসা ভাতা ১০ শতাংশ করা,
৩. এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে রোডম্যাপ ঘোষণা।









