সেলিম বাবু হ/ত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
সেলিম বাবু হ/ত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

নাছির নোমান :

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরে সেলিম বাবু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় ইসলামপুর নতুন অফিস বাজার সংলগ্ন মহাসড়কে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা সেলিম আকবর, অ্যাডভোকেট মো. তারেক, জামায়াত নেতা সাহাব উদ্দিন, ঈদগাঁও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেফাইল উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল আজিম, দেলোয়ার হোসেন, ইউসুফ নবী, মাস্টার আবু তাহের, নিহতের চাচা মাস্টার মোস্তাক, মো. সেলিম কোম্পানি, নিহতের বাবা সোলাইমান, মা দিলদার বেগম, স্ত্রী জেসমিন এবং মামা ইফতেখার মিল্টনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সেলিম বাবুকে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে। রাতভর নির্যাতনের একপর্যায়ে পানি চাইলে তাকে অমানবিক আচরণের শিকার করা হয় বলে দাবি করেন তারা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—ফাঁসি নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার মধ্যম নাপিতখালী এলাকার বাসিন্দা সোলাইমান ড্রাইভারের ছেলে সেলিম বাবুকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মাছ চুরির অভিযোগ তুলে তাকে একটি চিংড়ি ঘেরে নিয়ে কয়েক দফা নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

নির্যাতনের এক পর্যায়ে সেলিম বাবুর স্ত্রীর কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৯ এপ্রিল তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে গত ২৮ এপ্রিল বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় মেম্বার নূর মোহাম্মদ (৫৮), তার ছেলে আতা উল্লাহ (২৮), মোবারক (৩০), রমিজ (৩২), মনজুর আলম (৩৫), আবু নোমান (২৭) ও কালা বেলাল (৩২)।

এদিকে, গত ২৬ এপ্রিল নিহতের মা দিলদার বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।