বনশ্রীতে পাঁচ বছর ধরে ঘরবন্দি এক পরিবার, বাইরে বের হন না মা ও দুই ছেলে

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০১ পিএম
বনশ্রীতে পাঁচ বছর ধরে ঘরবন্দি এক পরিবার, বাইরে বের হন না মা ও দুই ছেলে

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর বনশ্রীর মেরাদেয়া এলাকায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে অদ্ভুত ও বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করছে এক পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাসার মা ও দুই ছেলেকে কেউ কখনো বাইরে বের হতে দেখেননি। বিষয়টি সম্প্রতি স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে বনশ্রীর মেরাদেয়া এলাকার একটি বাড়ির তিনতলায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকছেন মনিরুল নামে এক ব্যক্তি। তবে করোনাভাইরাস মহামারির সময় থেকেই তার স্ত্রী ও দুই ছেলের আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।

বাড়ির দারোয়ান জানান, “ওই পরিবারকে খুব কমই দেখা যায়। দুই-তিন মাস পর পর একবার মা ও দুই ছেলে সামান্য সময়ের জন্য দরজা খোলে। তাদের ১৬ ও ২১ বছর বয়সী দুই ছেলের পড়াশোনাও বন্ধ প্রায় পাঁচ বছর ধরে। বাবা বাজার করে দরজার সামনে রেখে যান, ভেতর থেকে ছেলে এসে নিয়ে যায়। বাইরে কখনো বের হয় না।”

বাড়িওয়ালা বলেন, “ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ না করায় তাদের কয়েকবার নোটিশ দিয়েছি, কিন্তু তারা ঘর ছাড়তে রাজি নয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে পুলিশে অভিযোগ করি। পুলিশ গিয়েও দরজা খোলাতে পারেনি।”

পুলিশ ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে ভেতর থেকে ওই নারীর কণ্ঠ শোনা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, “আমার স্বামী বাইরে গেলেই হত্যার আশঙ্কা থাকে। সে পরকীয়া করছে, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”

এ সময় ভেতর থেকে এক তরুণের কণ্ঠও শোনা যায়। সে বলে, “আমি এখনো স্টুডেন্ট, কিন্তু আমাকে লেখাপড়া করতে দিচ্ছে না। আমাকে ধরে রাখছে।”

তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন স্বামী মনিরুল। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ। তাকে বারবার চিকিৎসা করাতে বলেছি, কিন্তু সে রাজি নয়। এখন সন্তানদেরও সে বন্দি করে রেখেছে।”

প্রতিবেশীরাও জানান, বছরের পর বছর পরিবারটি এমনভাবে ঘরবন্দি জীবনযাপন করছে যে কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না, তারা কেমন আছে।

চিকিৎসকদের মতে, এমন আচরণ মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ফারহানা ইসলাম বলেন,

> “এই ধরনের পরিস্থিতিতে রোগীর মধ্যে ভ্রান্ত বিশ্বাস বা ডিলিউশন তৈরি হয়। তারা মনে করে কেউ তাদের ক্ষতি করতে চায়, ফলে সমাজ ও পরিবার থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। অনেক সময় একে সিজোফ্রেনিয়া বা ডিলিউশনাল ডিসঅর্ডার বলা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ সময় এমন অবস্থায় থাকলে শারীরিক ও মানসিকভাবে রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ওই পরিবারকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।