ফিলিস্তিনের ত্রাণ বহরে হামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে কালাইয়ে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:১৩ পিএম
ফিলিস্তিনের ত্রাণ বহরে হামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে কালাইয়ে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বর্বরতা, বিশেষ করে ত্রাণবাহী কাফেলায় হামলা ও ত্রাণকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার(৩ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে কালাই বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এই কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন কালাই আন নাজাত ফাউন্ডেশন। মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লি, শিক্ষক,স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালাই আহলে হাদিস জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের খতিব এবং হাতিয়র কামিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা সেলিম রেজা। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন কালাই আন নাজাত ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

মাওলানা সেলিম রেজা বলেন, গাজার নিরীহ শিশু, নারী ও পুরুষদের উপর যে নিষ্ঠুর গণহত্যা চালানো হচ্ছে, তা মানবতা ও আন্তর্জাতিক আইনকে উপহাস করা ছাড়া কিছুই নয়। আর এখন ত্রাণ বহরে হামলা চালিয়ে এবং কর্মীদের গ্রেফতার করে ইসরায়েল তাদের পাশবিকতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মুসলিম বিশ্বকে এ বিষয়ে একতাবদ্ধ হতে হবে।


শায়েখ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ, পেশ ইমাম ও খতিব, কালাই মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বলেন, গাজায় প্রতিদিন যে মানবিক বিপর্যয় চলছে, তা বিশ্ব বিবেকের জন্য লজ্জাজনক। আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা। এই মানববন্ধন তারই একটি অংশ। আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করুন।"

হারুঞ্জা জামে মসজিদের ইমাম মো.শামিম হোসেন বলেন, ইসরায়েল সরকারের এসব কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ। এই বর্বরতার বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর উচিত সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানানো এবং ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানো।

কালাই টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মো.তাইফুল ইসলাম ফিতা বলেন, শিক্ষা ও মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেও এই হামলাগুলো চরম নিন্দনীয়। মানবিক ত্রাণ বহরে হামলা চালানো এক প্রকার যুদ্ধাপরাধ। আন্তর্জাতিক আদালতের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।

পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আলিম বলেন, আজকে আমরা দলমত নির্বিশেষে ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। কারণ, এটি শুধুই কোনো মুসলিম ইস্যু নয়, এটি মানবতার ইস্যু। আমাদের দেশকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে আরও সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে।

বিক্ষোভ মিছিলটি কালাই আহলে হাদিস জামে মসজিদ থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে মানববন্ধনে রূপ নেয়।বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লিগণ ছাড়াও তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী এবং পথচারীরাও মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেন। প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে লেখা ছিল—“গাজায় গণহত্যা বন্ধ কর”, “ত্রাণ বহরে হামলা কেন?”, “ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াও”, ইত্যাদি।

এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং মানবতার পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা। বক্তারা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গাজার শিশুদের কান্না যেন বাতাসে না মিলিয়ে যায়—তাদের জন্য বিশ্ববাসীর জেগে ওঠা এখন সময়ের দাবি।