নীলফামারীতেই হচ্ছে ১ হাজার শয্যার চীনা হাসপাতাল

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:১৬ পিএম
নীলফামারীতেই হচ্ছে ১ হাজার শয্যার চীনা হাসপাতাল

নীলফামারী প্রতিনিধি: 

অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত চীন সরকারের উপহার হিসেবে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন হতে যাচ্ছে নীলফামারীতে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করেছে।

গত ৩০ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব ফাতিমা তুজ জোহরা ঠাকুর স্বাক্ষরিত ওই নোটিশটি ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, জেলার সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের দারোয়ানী টেক্সটাইল মাঠে সাড়ে ২৫ একর জায়গার ওপর নির্মিত হবে এই হাসপাতাল। ইতোমধ্যে হাসপাতাল স্থাপনের জন্য মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন এবং বিভিন্ন স্থাপনার ব্যয়ের প্রাক্কলন তৈরির কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।

চীন সরকারের এই হাসপাতাল স্থাপন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নীলফামারীসহ রংপুর অঞ্চলে আলোচনা-সমালোচনা ও টানাপোড়েন চলছিল। অবশেষে নোটিশ জারি হওয়ায় জেলার সর্বস্তরের মানুষে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে....

জেলা নেতাদের প্রতিক্রিয়া:

হাসপাতাল স্থাপনের এ সিদ্ধান্তে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএইচএম সাইফুল্লাহ রুবেল।

অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন,

> “এত বড় হাসপাতাল হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য এখন আর ঢাকাসহ দেশের বাইরে যেতে হবে না। এতে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থাও আরও মজবুত হবে।”

জেলা বিএনপির নেতা সাইফুল্লাহ রুবেল বলেন,

> “দীর্ঘদিন ধরে নীলফামারীর মানুষ একটি বড় হাসপাতালের দাবি জানিয়ে আসছিল। চীন সরকারের সহায়তায় তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, এটি আমাদের সবার জন্য গর্বের।”

ব্যবসায়িক ও প্রশাসনিক অভিমত:

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি সোহেল পারভেজ বলেন,

> “চীন সরকারের হাসপাতাল স্থাপনে সরকারের নির্বাচন যথাযথ হয়েছে। দারোয়ানী টেক্সটাইল মাঠ সব দিক থেকে উপযুক্ত। এখানে হাসপাতাল হলে ব্যবসায়িকভাবেও জেলাটি আরও এগিয়ে যাবে।”

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউজ্জামান জানান,

> “আমরা ইতোমধ্যে চিঠি পেয়েছি এবং প্রাথমিক ডিজিটাল সার্ভে কাজ শুরু করেছি। দ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন,

> “টেক্সটাইল মাঠ এলাকায় ৬০ একরেরও বেশি সরকারি জমি রয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালের জন্য ২৫ একর জমি বরাদ্দ দিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ব্যয় ও নকশার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, চীনা সরকারের সহায়তায় নীলফামারীতেই হবে এই হাসপাতাল।”

প্রসঙ্গত, এই হাসপাতালটি স্থাপনের দাবিতে নীলফামারী ছাড়াও রংপুর, লালমনিরহাট ও দিনাজপুরে আন্দোলন হয়েছিল। অবশেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে নীলফামারীকেই উপযুক্ত স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

চীন সরকারের অর্থায়নে নির্মিত এ হাসপাতাল সম্পন্ন হলে দেশের উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।