নির্বাচনের আগে জাকির নায়েককে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি নয়

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪৫ পিএম
নির্বাচনের আগে জাকির নায়েককে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইসলামি বক্তা ড. জাকির নায়েককে আপাতত বাংলাদেশে আসার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় নির্বাচনের আগে তাঁর আগমন নিরাপত্তা ও জনসমাগম-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

জাকির নায়েকের ঢাকায় আসার পরিকল্পনা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আগামী ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দুই দিনের জন্য জাকির নায়েককে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তাঁর ঢাকার বাইরেও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

তবে জাকির নায়েকের সফর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে দেখা যায়, তাঁর আগমন ঘিরে বিপুল জনসমাগমের আশঙ্কা রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রয়োজন পড়বে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যস্ততার কারণে আপাত নিষেধাজ্ঞা

সভায় জানানো হয়, বর্তমান সময়ে দেশের সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা নির্বাচনমুখী দায়িত্বে নিয়োজিত। ফলে এমন বৃহৎ জনসমাগম সামলানোর জন্য অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা সম্ভব নয়।

ফলে সিদ্ধান্ত হয়, জাতীয় নির্বাচন শেষে তাঁর সফরের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু নির্বাচনের আগে তাঁর আগমন অনুমোদন করা হবে না।

২০১৬ সালের পর বিতর্কে জাকির নায়েক

২০১৬ সালে ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর ভারত সরকার জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে উসকানি ও ঘৃণাবাচক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ আনে।

এরপর তিনি ভারত ত্যাগ করে মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন, যেখানে সরকার তাঁকে স্থায়ী আবাসনের অনুমতি দেয়। বর্তমানে তিনি পুত্রজায়া শহরে বসবাস করছেন।

সভায় উপস্থিতরা

আজকের সভায় উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।