ধর্ম ও চেতনা নিয়ে ব্যবসা চলবে না: সালাউদ্দিন আহমেদ

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:২২ পিএম
ধর্ম ও চেতনা নিয়ে ব্যবসা চলবে না: সালাউদ্দিন আহমেদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “ধর্ম নিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসা চলবে না। ইসলাম রাজনৈতিক বাক্স নয়। ইসলামের নামে যারা বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় তাদের রাজনৈতিকভাবে ভোটের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।”

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা

আওয়ামী লীগের ইতিহাসকে ‘লুটপাট, সন্ত্রাস, অর্থপাচার ও গণতন্ত্র হত্যার ইতিহাস’ আখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,

“২৪-এর আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ১৪০০ মানুষ হত্যা করেছে। ২০ হাজারের বেশি মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এত রক্ত ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে হাসিনার পতনের পর আজ আমরা এখানে আসতে পেরেছি। আমাদের যেন সেই রক্তাক্ত ইতিহাস ভুলে না যাই।”

বিএনপির ইতিহাস ‘সংস্কারের’ ইতিহাস

বিএনপি নেতার দাবি, বিএনপির ইতিহাস হলো সংস্কারের ইতিহাস।

তিনি বলেন, “বিএনপি রাজনৈতিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে মানুষের ধারণাকে ধারণ করেছে। যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপিই প্রকৃত সংস্কারের রাজনীতি করেছে।”

ধর্ম ও চেতনা নিয়ে ব্যবসা প্রসঙ্গে

তিনি আরো বলেন,

“৭১-এর চেতনার ব্যবসা করতে করতে হাসিনা দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে। চেতনা ব্যবসা করতে করতে হাসিনার মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে। তাই ৭১-এর চেতনা ব্যবসা যেমন চলবে না, এই দেশে ধর্ম নিয়ে ব্যবসাও চলবে না। একইভাবে জুলাই বিক্রির ব্যবসাও চলবে না। জনগণ এখন সচেতন—কোনো চেতনা ব্যবসায়ীকে প্রশ্রয় দেবে না।”

এ সময় তিনি কিছু গোষ্ঠীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “কারা যেন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে চায়। কেউ কি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে পারে? যারা বিক্রি করতে চায় তারা ধর্ম ব্যবসায়ী।”

তারেক রহমান ও সংস্কার প্রসঙ্গ

বিএনপি স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “তারা যে সংস্কারের কথা বলে, তারা জানে না বর্তমানে সংস্কারের জনক তারেক রহমান। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফাই এ দেশের প্রকৃত সংস্কার। আমরা ৩১ দফা সিলগালা করে দিইনি। যৌক্তিক প্রস্তাব এলে তা যুক্ত করা হবে। সংস্কার কখনো শেষ হয় না, এটি চলমান প্রক্রিয়া।”

নির্বাচন ও গণতন্ত্র

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,

“কেউ বলেছে বিচার ও সংস্কার না হলে নির্বাচন হবে না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছে। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার আসবে—আমার দৃঢ় বিশ্বাস।”

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,

“সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভ থাকতে হবে। প্রতিনিয়ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে আপনাদেরই। সত্য তুলে ধরে মানুষকে জানাতে হবে।”

উপস্থিত নেতারা

সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, কেন্দ্রীয় শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন ও সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।