নকল মেডিকেটেড সাবান বিক্রির দায়ে ফার্মেসিকে জরিমানা

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
নকল মেডিকেটেড সাবান বিক্রির দায়ে ফার্মেসিকে জরিমানা

মো. মেহেদী হাসান,  মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় স্বনামধন্য ইমপোর্টেড ব্রান্ড বায়োটেক কর্পোরেশন এর নকল মেডিকেটেড সাবান বিক্রির অপরাধে 'সীমান্ত মেডিকেল হল' নামক একটি ফার্মেসিকে আর্থিক জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) পৌর শহরের কে এম লতীফ মেডিসিন মার্কেটে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ রায় এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

গোপন অভিযোগের ভিত্তিতে কে এম লতীফ মেডিসিন মার্কেটের ওই ফার্মেসিতে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আভিযানিক দল। তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সুপরিচিত ইম্পোর্টেড কোম্পানি ‘বায়োটেক করপোরেশন’ কর্তৃক আমদানিকৃত দুটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেটেড সাবানের নকল ভার্সন বিক্রি করে আসছিল। সাবান দুটি হলো, Silkin P Soap (সিলকিন পি সোপ) যা স্ক্যাবিস বা চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত পারমিথ্রিন (Permethrin) যুক্ত সাবান। এবং Kiton Soap (কিটন সোপ) অ্যালার্জি ও ছত্রাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিটোকোনাজল (Ketoconazole) যুক্ত সাবান।

আসল সাবানের মোড়ক ও নকশা হুবহু নকল করে এসব পণ্য ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে করে সাধারণ রোগীরা আসল ওষুধ ভেবে এসব নকল পণ্য কিনে আর্থিকভাবে প্রতারিত হবার পাশাপাশি তাদের চর্মরোগ নিরাময়ের বদলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছিল।

নকল ওষুধ সামগ্রী মজুত এবং বিক্রির অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৫ (ক) ধারা অনুযায়ী 'সীমান্ত মেডিকেল হল'-কে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ফার্মেসিটি থেকে ৩১ টি নকল পণ্য জব্দ করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বেআইনি ও জনস্বাস্থ্যবিরোধী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়।

অভিযান শেষে পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ রায় জানান, "ওষুধের মতো সংবেদনশীল ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত পণ্যে ভেজাল বা নকল করা একটি গুরুতর অপরাধ। অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জনস্বার্থ রক্ষায় ও ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিতে আমাদের এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"

এ সময় তিনি নকল ও ভেজাল পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে ক্রেতাদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং যেকোনো পণ্যের মোড়ক, মেয়াদ ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। অভিযান পরিচালনাকালে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের একটি দল সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা প্রদান করে।