দেশজুড়ে অগ্নিকাণ্ড: ‘এগুলো দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত': সারজিস আলম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আগুন লাগার ঘটনাকে কুনটিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি শনিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্টে এ মন্তব্য করেন।
সারজিস আলম তার পোস্টে বলেন, “স্বৈরাচারের দোসরদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে না পারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম বড় ব্যর্থতা। যার ফল বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করতে হবে।” তিনি আরও লিখেছেন, “বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখি না। এগুলো স্বৈরাচারের দোসরদের দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের অংশ। তথাকথিত তদন্ত কমিটির নাটক বাদ দিয়ে এর পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হোক।”
এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা তদন্তের আপডেট এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সারজিস আলম তার পোস্টে তদন্তের উপরে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাত্ক্ষণিক ও জোরালো তদন্তের দাবি জানান—যার মাধ্যমে যদি পাওয়া যায়, দায়িত্বশীলদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি মনে করেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশের নিরাপত্তা ও জনজীবনে এমন ধরনের অগ্নিকাণ্ডের যে প্রভাব পড়ে তা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে সক্ষম। এনসিপি নেতার এই দাবি প্রকাশ হওয়ার পর রাজনৈতিকাঙ্গনে এবং সামাজিকমাধ্যমে এটি নিয়ে তর্ক-প্রতিবাদও শুরু হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িত কোনও গোষ্ঠী-ব্যক্তি থাকলে তাদের পরিচয় এবং তদন্তে কারা তৎপর—এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিস্তারিত ও স্বচ্ছ জয়েন্ট তদন্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন সুশীল সমাজের অনেকে। তারা বলছেন, তদন্তে স্বচ্ছতা না থাকলে শিহরিত জনমানসে সন্দেহ ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ বাড়বে।
সারজিস আলমের আভাস ও দাবিগুলো দেশের নিরাপত্তা, প্রশাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন কুঁচকিয়েছে—যা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না হলে বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া আগুন লাগার ঘটনাগুলো টেকসইভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলে বোঝা যাচ্ছে।









