তানোরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে ছাগল বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ: বরাদ্দের টাকা গেল কোথায়?

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৫৯ পিএম
তানোরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে ছাগল বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ: বরাদ্দের টাকা গেল কোথায়?

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট,  রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর তানোরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও দুর্নীতির অভিযোগ। সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে যে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে, তার মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে অভিযোগ তুলেছেন উপকারভোগীরা। ফলে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের আয়োজনে সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ২০০টি পরিবারের মাঝে দুটি করে ছাগল ও একটি করে ম্যাট বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান এবং সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওয়াজেদ আলী মিয়া। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করে তোলা। কিন্তু উপকারভোগীদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অনেক ভালো মানের ছাগল সরবরাহ করা সম্ভব ছিল। তারা অভিযোগ করেন, “আমরা যে ছাগল পেয়েছি, এগুলো দুর্বল ও বাজারমূল্যের তুলনায় অতি নিম্নমানের। মনে হচ্ছে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে বেশিরভাগই অন্যত্র চলে গেছে।”

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, “বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ প্রকল্প পরিচালক জানাতে পারবেন।” তবে তিনি সরাসরি বিতরণকৃত ছাগলের মান নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার এই অবস্থান স্থানীয়দের মধ্যে আরও সন্দেহ তৈরি করেছে।

উপকারভোগীদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, বরাদ্দের অর্থ কোথায় ব্যয় হলো, কারা সরবরাহ করল এই ছাগল, এবং কেন তাদের মান যাচাই করা হলো না। স্থানীয়দের মতে, প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ছাগল পৌঁছাচ্ছে কি না, কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে কি না—তা নিয়েও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের দাবি তুলেছেন অনেক ভুক্তভোগী। তারা বলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ যদি সঠিকভাবে ব্যবহার না হয়, তবে এই কর্মসূচি কখনোই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে না। বরং এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা স্বচ্ছতার সংকটের প্রতিফলন। বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার ও প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের উদ্যোগ কখনোই টেকসই হবে না।