জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি ও সংস্কারবিরোধী অবস্থান পরিত্যাগের আহ্বান রাকসুর

প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৮ পিএম
জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি ও সংস্কারবিরোধী অবস্থান পরিত্যাগের আহ্বান রাকসুর

মো: স্বাধীন খন্দকার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :

ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রণীত ‘জুলাই সনদ’-এর আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। একই সঙ্গে রাকসু রাজনৈতিক দলগুলোকে সংস্কারবিরোধী মনোভাব ত্যাগ করে জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানায়।

রাকসুর মতে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে গঠিত জুলাই সনদ কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ফল নয়, এটি গোটা জাতির ন্যূনতম ঐকমত্যের দলিল। তাই এই সনদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া সময়ের দাবি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন দেশে এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, যা ক্রমে ফ্যাসিবাদী রূপ নেয়। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সংবিধান পরিবর্তন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং দমন–নিপীড়নের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত করা হয়। সেই ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের ফলেই সংঘটিত জুলাই অভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে।

 

রাকসু মনে করে, এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে জুলাই সনদই হবে পরিবর্তনের নীলনকশা। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও—জুলাই গণহত্যার বিচার, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের চিকিৎসা, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কার ও অবাধ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং কিছু রাজনৈতিক দল সংস্কার প্রক্রিয়ার মৌলিক প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করে অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে।

বিশেষভাবে বিএনপি উচ্চকক্ষে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) ভিত্তিক আসন বণ্টনের প্রস্তাব, মেধাভিত্তিক পিএসসি নিয়োগ, বিচারপতি ও সাংবিধানিক পদে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এসব আপত্তি, রাকসুর ভাষায়, “পুরোনো প্রথা ও ফ্যাসিবাদী ধ্যানধারণাকে আঁকড়ে থাকারই বহিঃপ্রকাশ।”

রাকসু বলেছে, সংস্কার কেবল রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা নয়; এটি সমগ্র জাতির দাবি। জনগণের মতামত যাচাই করে প্রকৃত অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করাই গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব। তাই জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট আয়োজন এখন সময়ের দাবি।

রাকসু আহ্বান জানিয়েছে—সরকার যেন দ্রুততম সময়ে জুলাই সনদকে আইনি স্বীকৃতি দিয়ে গণভোটের উদ্যোগ নেয়। দুই দশক ধরে ভোটাধিকারবঞ্চিত জনগণের কাছে জাতীয় নির্বাচন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণেও জুলাই সনদ সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

বিবৃতির শেষে রাকসু সব রাজনৈতিক দলকে জুলাই সনদকে ধারণ করে একই পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়।