চাকসু নির্বাচনে শিবিরের বড় জয়, সাদিক কায়েমের ভাই আবু আয়াজ হল সংসদে বিজয়ী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত সম্প্রীতি শিক্ষার্থী জোট। ভিপি, জিএসসহ বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পদে এই জোটের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন।
সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয় পেয়েছেন ডাকসুর বর্তমান ভিপি সাদিক কায়েমের ছোট ভাই আবু আয়াজ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সোহরাওয়ার্দী হল শাখার প্রকাশনা সম্পাদক। আবু আয়াজ ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবেও পরিচিত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবু আয়াজ ও ভিপি সাদিক কায়েমের বাড়ি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নয়নপুর গ্রামে। তাদের বাবা মূলত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা হলেও প্রায় চার দশক আগে ব্যবসার কারণে পরিবারসহ খাগড়াছড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আবু আয়াজ সাদিক কায়েমের একমাত্র ভাই, তাদের আরও তিন বোন রয়েছে।
চাকসুর সামগ্রিক নির্বাচনে ভিপি পদে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্রার্থী ইব্রাহীম হোসেন রনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ২২১ ভোট, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৫ ভোট।
জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে একই জোটের প্রার্থী সাঈদ বিন হাবিব ৭ হাজার ২৯৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের শাফায়াত হোসেন পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৪৩৩ ভোট।
অন্যদিকে, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ছাত্রদল–সমর্থিত আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ৬ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর শিবির–সমর্থিত সম্প্রীতি শিক্ষার্থী জোট ক্যাম্পাসজুড়ে বিজয় মিছিল বের করে। এসময় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
তবে ফলাফল নিয়ে ছাত্রদল প্রশ্ন তুলেছে এবং বেশ কিছু কেন্দ্রে পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভোট গণনায় কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ বছর পর অনুষ্ঠিত এই চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। নির্বাচনে অংশ নেয় ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, বাম জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন।









