লবণাক্ততার বিরুদ্ধে বড় জয়: সুন্দরবনের গভীরে আবিষ্কৃত হলো বিশাল সুপেয় পানির আধার

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
লবণাক্ততার বিরুদ্ধে বড় জয়:  সুন্দরবনের গভীরে আবিষ্কৃত হলো বিশাল সুপেয় পানির আধার

প্রিন্স মণ্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ 

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ এলাকায় নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা দিন দিন কমে আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে সুন্দরবনের তলদেশে দুটি বৃহৎ মিঠাপানির স্তরের সন্ধান পাওয়ার খবর স্থানীয় জনগণের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনসে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিউ মেক্সিকো ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা যৌথভাবে এ গবেষণা পরিচালনা করেন।

গবেষণায় খুলনা থেকে সুন্দরবনের পশুর নদী অববাহিকা পর্যন্ত প্রায় ১২০ কিলোমিটার এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ২৫টি পৃথক স্থানে ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা দুটি সুপেয় পানির স্তরের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।

গবেষকদের মতে, হাজার হাজার বছর আগে বরফ যুগে নদীবাহিত মিঠাপানি ও বৃষ্টির পানি গভীর ভূস্তরে জমা হয়েছিল। পরবর্তীতে কাদামাটির শক্ত আবরণ সেটিকে লবণাক্ত পানির সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করে। ফলে আজও সেই পানি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, একটি পানির স্তর প্রায় ৮০০ মিটার গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং অন্যটি ২৫ থেকে ২৫০ মিটার গভীরতায় অবস্থান করছে। উভয় স্তরের বিস্তৃতি মিলিয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই প্রাকৃতিক ভাণ্ডার ছড়িয়ে রয়েছে।

উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, অধিকাংশ অগভীর নলকূপের পানি লবণাক্ত হওয়ায় তা পান করার উপযোগী নয়। অনেক পরিবার দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে নারীরা এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।

তবে গবেষকরা মনে করেন, নতুন এই পানির উৎস ব্যবহারে তাড়াহুড়া করা যাবে না। কারণ এটি একটি সীমিত ও ধীরে পুনর্গঠিত হওয়া সম্পদ। তাই কৃষিকাজ বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের পরিবর্তে জরুরি প্রয়োজন ও মানবিক ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূলেও একই ধরনের অনুসন্ধান পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অপরিকল্পিত গভীর নলকূপ স্থাপন বন্ধ করে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

সঠিক পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই আবিষ্কার উপকূলীয় অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।