চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেটের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচন হয়নি কখনোই
আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-১৯৭৩ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ হলো সিনেট। এই সিনেটে পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সময়ই সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন হলেও এবারও সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্ষদে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ আবারও অধরাই থাকছে।
অধ্যাদেশের ২২ নম্বর অনুচ্ছেদের ১নং ধারায় সিনেট গঠনের নিয়মাবলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এতে বলা হয়েছে, উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়, সরকারি কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধি, কলেজ অধ্যক্ষ ও শিক্ষক, রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি “বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দ্বারা নির্বাচিত ৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সিনেট সদস্য হবেন”। আইন অনুযায়ী এসব শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এক বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন এবং তাদের ছাত্রত্ব শেষ হলে সদস্যপদও বাতিল হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪ নম্বর সংবিধিতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনের পদ্ধতিও বিস্তারিতভাবে বর্ণিত রয়েছে। উপাচার্য নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবেন এবং একজন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেবেন। নির্বাচনের অন্তত ১৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে এবং ভোটগ্রহণ হবে গোপন ব্যালটে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এ সংবিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া কোনো সময়ই অনুসরণ করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন পরিচালনা শাখা সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে কখনো শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে—এমন কোনো নথি নেই। এমনকি ১৯৯০ সালের সর্বশেষ চাকসু নির্বাচনের সময়ও সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচন হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
চাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রার্থীও সিনেট নির্বাচন সম্পর্কে কিছু জানেন না। নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আরিফুল হক সিদ্দিকী জানান, “বর্তমান কমিশনকে কেবল চাকসু, হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিনেটে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমাদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “যেহেতু অতীতে কখনো এই নির্বাচন হয়নি, তা বলে বর্তমান প্রশাসনও করতে পারবে না—এমন নয়। আমরা বিষয়টি উপাচার্যকে জানাব এবং সংবিধিবদ্ধ পর্ষদে তুলব।”
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “বর্তমান প্রশাসন নির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত মনোযোগী। চাকসু নির্বাচন শেষে আমরা সিনেটের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় নেব।”
ফলে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিনেটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর কবে যুক্ত হবে?









