গাজায় ফের স্কুলের ঘণ্টাধ্বনি: ধ্বংসস্তূপের মাঝেও তিন লাখ শিক্ষার্থীর ক্লাসে ফেরা

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫০ পিএম
গাজায় ফের স্কুলের ঘণ্টাধ্বনি: ধ্বংসস্তূপের মাঝেও তিন লাখ শিক্ষার্থীর ক্লাসে ফেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দুই বছরেরও বেশি সময় পর আবারও স্কুলে ফিরেছে গাজার তিন লাখ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী। ইসরায়েলের টানা অবরোধ ও হামলার মধ্যে শিক্ষার আলো জ্বালাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা—ইউএনআরডাব্লিউএ (UNRWA)। শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস শুরু হয়েছে, যদিও এখনো গাজায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা ঢুকছে না।

ইউএনআরডাব্লিউএ-এর মিডিয়া উপদেষ্টা আদনান আবু হাসনা জানিয়েছেন, সংস্থাটি তিন লাখ শিক্ষার্থীর জন্য নতুন করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, “এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থী সরাসরি স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে ক্লাস করবে, আর বাকি শিক্ষার্থীরা অনলাইনে দূরশিক্ষণ পাবে।”

তিনি আরও জানান, “আট হাজার শিক্ষক এই প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছেন।”

যুদ্ধ ও মহামারির পর শিক্ষায় নতুন সূচনা

দীর্ঘ দুই বছরের স্কুল বন্ধের পেছনে একের পর এক বিপর্যয়। প্রথমে করোনা মহামারি, এরপর ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের আগ্রাসন—সব মিলিয়ে গাজায় শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বহু স্কুল ধ্বংস হয়েছে, আবার অনেকগুলো শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে।

ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় ১৭২টি সরকারি স্কুল ধ্বংস, ১১৮টি ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১০০টিরও বেশি ইউএনআরডাব্লিউএ পরিচালিত স্কুলে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া, ১৭ হাজার ৭১১ শিক্ষার্থী নিহত, ২৫ হাজার ৮৯৭ জন আহত এবং ৭৬৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে

ইউএনআরডাব্লিউএ জানিয়েছে, গাজায় ২২টি কেন্দ্রীয় ক্লিনিক পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য বিতরণের জন্য কয়েক ডজন কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। কিন্তু সংস্থাটির কর্মকর্তা আদনান আবু হাসনা বলেন, গাজার বাইরে বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা আটকে আছে।

তিনি জানান, “বেসিক প্রয়োজনীয় দ্রব্য—আশ্রয় উপকরণ, কম্বল, শীতকালীন পোশাক ও ওষুধ ইসরায়েলি সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।”

গাজার ৯৫ শতাংশ মানুষ এখন সম্পূর্ণভাবে মানবিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

৬৮ হাজার প্রাণহানি, আশ্রয়হীন মানুষের হাহাকার

দুই বছরের টানা হামলায় গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬৮ হাজার ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছে।

ইউএনআরডাব্লিউএ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, গাজার অবস্থা এখন এতটাই করুণ যে এটি বসবাসের অনুপযোগী অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। তবুও ধ্বংসস্তূপের মাঝেই শিশুদের ক্লাসে ফেরা—একটি ছোট আশার আলো, যা ফিলিস্তিনি জনগণের অদম্য টিকে থাকার প্রতীক।