মেসিকে বিয়ে করতে চাওয়া শতবর্ষী সেই নারী কে?
স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসির খেলা নিয়ে বিশ্বজুড়ে মাতামাতির মাঝেই এবার গ্যালারি থেকে সবার নজর কেড়েছেন ১০০ বছর বয়সী এক নারী ফুটবল ভক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘গ্র্যানি স্মিথ’ নামে পরিচিত। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে গ্যালারিতে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে হাজির হন তিনি।
এ সময় তাঁর হাতে একটি প্ল্যাকার্ড ছিল, যাতে লেখা ছিল- ‘আমি ১০০ বছর বয়সী এবং আমি মেসির ভক্ত।’ সম্প্রচার ক্যামেরায় দৃশ্যটি আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।
এই নারী ভক্তের আসল নাম পউলিনে কানা। তবে অনলাইন দুনিয়ায় তিনি ‘গ্র্যানি স্মিথ’ বা ‘গ্যাংস্টার গ্র্যানি’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা এই শতবর্ষী নারী মূলত একজন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর। নাতি রস স্মিথের সঙ্গে বিভিন্ন কমেডি ভিডিও, স্টান্ট ও মজার কনটেন্ট তৈরি করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। টিকটকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা কোটির ওপরে। এ ছাড়া ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবেও তাঁর বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। বয়সকে জয় করে সাহসী কনটেন্ট তৈরির কারণে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও তাঁর নাম উঠেছে।
মেসির প্রতি পউলিনে কানার এই ভালোবাসা কিন্তু নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন ফুটবল ম্যাচে আর্জেন্টাইন তারকার প্রতি নিজের আবেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে ইন্টার মায়ামির ম্যাচে উপস্থিত হয়েও তিনি বেশ কয়েকটি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেছিলেন। পোর্তোর বিপক্ষে এক ম্যাচে তিনি প্ল্যাকার্ডে লিখেছিলেন, ‘মেসি, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?’ আবার পিএসজির বিপক্ষে অন্য এক ম্যাচে তাঁর প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘মেসি, আমি তোমাকে ভালোবাসি। বয়স শুধু একটি সংখ্যা।’ ওই সময় ওয়ার্ম-আপ করার সময় মেসি দূর থেকে তাঁর দিকে তাকিয়ে হেসে হাত নেড়েছিলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে মেসি জোড়া গোল করে দলকে জেতানোর পাশাপাশি নিজের রেকর্ড আরও উন্নত করেন। ঠিক সেই স্মরণীয় রাতে গ্যালারিতে পউলিনে কানার উপস্থিতি ম্যাচে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এই শতবর্ষী ভক্তের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই ইন্টারনেটে ঝড় ওঠে।
পউলিনে কানা শুধু একজন ফুটবল অনুরাগীই নন, বরং একজন সফল ইনফ্লুয়েন্সার। এর আগে ৯৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি কনসার্টে ‘ক্রাউড সার্ফিং’ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। ১০০ বছর বয়সে বিশ্বকাপের গ্যালারিতে উপস্থিত হয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, ফুটবল কেবল তরুণদের খেলা নয় এটি নিখাদ আবেগের জায়গা, যেখানে বয়স কোনো বাধা হতে পারে না।









