‘বিয়ে না করে যাব না’—প্রেমিকের বাড়ির সামনে দুই দিন ধরে তরুণীর অনশন

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:২২ এএম
‘বিয়ে না করে যাব না’—প্রেমিকের বাড়ির সামনে দুই দিন ধরে তরুণীর অনশন

সূত্রঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি


লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় প্রেমিকের বাড়ির সামনে দুই দিন ধরে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন ফেনীর এক তরুণী। প্রেমিক বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন—এমন অভিযোগ করে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘বিয়ে না করে আমি যাব না।’


গত রোববার বিকেল থেকে উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাটোয়ারীবাড়িতে কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেনের বসতঘরের সামনে অবস্থান করছেন ওই তরুণী। ইমন মৃত আবুল খায়েরের ছেলে।


অনশনরত তরুণীর দাবি, ইমনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের আশ্বাসে তিনি সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তবে বর্তমানে ইমন তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এ কারণে ফেনী থেকে রামগঞ্জে এসে ইমনের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।


তরুণী বলেন, ‘ইমন আমাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। তাঁর কথায় বিশ্বাস করেই আমি সম্পর্কে জড়িয়েছি। এখন সে আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে তাঁর বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছি। ইমন আমাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত এখান থেকে যাব না।’


তাঁর অভিযোগ, সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে ইমন তাঁকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় নিজের অধিকার আদায়ে প্রেমিকের বাড়িতে এসে অনশন করছেন তিনি।


এদিকে ফেনী থেকে এক তরুণী এসে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন—এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়। তাঁকে দেখতে ওই বাড়ির সামনে স্থানীয় লোকজনের ভিড়ও দেখা যায়।


তরুণীর অভিযোগের বিষয়ে ইমন হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ইমনের মা বলেন, ‘ছেলে ও মেয়েটির মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে বলে শুনেছি। ছেলে চার মাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিল। এখন আবার বিদেশে চলে গেছে। সে দেশে থাকাকালে মেয়েটি একবার আমাদের বাড়িতে এসে ঝামেলা করেছিল। এখন আবার এসেছে। আমাদের ধারণা, আমাদের অপমান-অপদস্থ করতেই সে এখানে এসেছে।’


রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওই তরুণী এর আগেও একাধিকবার ইমনের বাড়িতে এসেছেন। গত ১ জুলাইও তিনি একই বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছিলেন। তখন পুলিশ তাঁকে বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।


ওসি বলেন, ওই সময় তরুণী প্রথমে তাঁর সঠিক নাম-ঠিকানা দেননি। পরে তিনি যে নাম-ঠিকানা দেন, তা যাচাই করতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে গিয়ে তদন্ত করেন। তবে তাঁর দেওয়া ঠিকানার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এমনকি তিনি সঠিক কোনো মোবাইল নম্বরও দেননি।


ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘তরুণীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তখন তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাঁকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। বর্তমানে তিনি আবারও ওই বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।’