সুন্নি ভোট এক বাক্সে আনার চেষ্টা
ডেস্ক রিপোর্টঃ
চট্টগ্রামের ৬–৭ আসনে জয়ের স্বপ্ন ‘বৃহত্তর সুন্নি জোট’-এর
সুফি, তরিকত ও খানকাহপন্থিদের ‘তীর্থভূমি’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামকে ঘিরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সুন্নিপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দুই জোটের বিপরীতে সুন্নি মতাদর্শী ভোট এক বাক্সে আনতে সক্রিয় হয়েছে সদ্য গঠিত ‘বৃহত্তর সুন্নি জোট’।
এই জোটের লক্ষ্য চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত ছয় থেকে সাতটিতে জয়। সে লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক ক্লিন ইমেজের জনপ্রিয় ও উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ও প্রভাবশালী পীর-মাশায়েখরা।
তিন দল নিয়ে বৃহত্তর সুন্নি জোট
বৃহত্তর সুন্নি জোটে থাকা তিনটি দল হলো— বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি–বিএসপি (একতারা)। গত ৩০ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ভেঙেই গঠিত হয়েছিল ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। একই মতাদর্শের অনুসারী হয়েও পরে আলাদা দল গঠন করেন বিএসপিপ্রধান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ মাইজভান্ডারী। তিন দলেরই মূল ঘাঁটি চট্টগ্রাম হলেও সারাদেশে তাদের সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে।
এই জোট ৩০০ আসনের মধ্যে ৭০টিতে প্রার্থী দিয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে তারা প্রার্থী দিয়েছে ১৩টিতে।
জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রার্থী নন
জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিন দলের বেশির ভাগ জ্যেষ্ঠ নেতা এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন— বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এমএ মতিন, মহাসচিব স. উ. ম. আবদুস সামাদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব জয়নুল আবেদিন জুবাইর এবং বিএসপি মহাসচিব শাহ মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন। অতীতে তারা নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার কৌশলগত কারণে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নতুন মুখদের এগিয়ে আনা হয়েছে। নেতাদের ভাষ্য, নতুন প্রজন্মকে দলে টানতেই এই সিদ্ধান্ত।
চট্টগ্রামে ১৩ প্রার্থী
চট্টগ্রামের ১৩ আসনে জোটের প্রার্থীরা হলেন—
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ মাইজভান্ডারী
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড): মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী): মাওলানা রফিক উদ্দিন
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইলিয়াস নুরী
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া): অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও): মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান আজহারী
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া): মাওলানা ওয়াহেদ মুরাদ
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর): মাওলানা আবু তাহের
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা): মাওলানা মো. আবু তাহের
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া): পীরজাদা সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী): সৈয়দ মুহাম্মদ শাহজাহান
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ): মাওলানা মো. সোলায়মান ফারুকী
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): মাওলানা আবদুল মালেক
এই প্রার্থীদের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের, পাঁচজন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের এবং দুজন বিএসপির।
যেসব আসনে আশাবাদী জোট
জোট নেতারা চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৭, চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১২, চট্টগ্রাম-১৩ ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জয়ের ব্যাপারে বেশি আশাবাদী। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-২ আসনকেও সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএসপিপ্রধান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ মাইজভান্ডারী।
আসন সমঝোতা
জোট সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা নিরসন হয়েছে। সমঝোতার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-৪ ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী প্রত্যাহার করবে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হবে বিএসপিকে এবং চট্টগ্রাম-৫ আসনটি ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশকে।
বা/মে২৪/ফা









