সিংগাইরে স্কুলছাত্রকে মারধর,ভিডিও ধারণ,স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা!

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
সিংগাইরে স্কুলছাত্রকে মারধর,ভিডিও ধারণ,স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা!

সূত্রঃ সংগৃহীত

সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি


মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক স্কুল ছাত্রকে মারধর ও নির্যাতনের পর ভিডিও ফুটেজ ধারণ করার অভিযোগে স্বামী- স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সদর ইউনিয়ন গোবিন্দল গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুর রউফ (৪৩)ওরফে আ.হক এ মামলা দায়ের করেন। 


মামলায় অভিযুক্তদ্বয় হচ্ছেন,মৃত তনুরুদ্দিনের ছেলে এফ এম ফজলুল হক(৬০) ও তার স্ত্রী রিপন আক্তার ফজলু (৪৮)। তারা সিংগাইর পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের উপজেলা সরকারি কোয়ার্টার সংলগ্ন বাসিন্দা। 


জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মানিকগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিংগাইর থানার আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন বলে বাদী পক্ষের আইনজীবী মো.রেজাউল করিম নিশ্চিত করেন। 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাদীর নাবালক ছেলে মো. রাফসান(১৫) বাসায় একা অবস্থান করছিল। এ সুযোগে বাসার মালিক এফ এম ফজলু এবং তার স্ত্রী রিপন আক্তার অজ্ঞাত ২-৩ জন সহযোগী নিয়ে নিচতলায় ভাড়াটিয়ার বাসায় ঢুকে রাফসানকে জোরপূর্বক ভবনের ৫ম তলার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আসামীরা বেধড়ক  মারধর করে গুরুতর আহত করে। এরপর তাকে দু'তলার একটা গোপন কক্ষে নিয়ে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা চুরির জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে এবং তাদের মোবাইল ও ক্যামেরায় ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে। পরে বাদীর কাছ থেকে ফজলুর ধার করা ১ লাখ টাকা ফেরত চাইলে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি ও ভয় দেখায় আসামীরা।

 

এর আগে ২০২৩ সালের ৩ নভেম্বর আসামীদ্বয় তাদের ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর সময় ৩ মাসে ফেরত দেয়ার শর্তে মামলার বাদীর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ধার নেয় ফজলু ।ওই পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় বাদীর সাথে আসামীদের সম্পর্কের অবনতি সৃষ্টি হয়। ফন্দি আঁটে ধারের টাকা আত্মসাতের। এক পর্যায়ে বাদীর নাবালক ছেলেকে নির্জন কক্ষে আটকে রেখে চুরির অপবাদ দিয়ে ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে বলে আব্দুর রউফ জানান। 

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ,ফজলু যে কোনো তুচ্ছ ঘটনায় নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে নিবন্ধন বিহীন পিটিভি বাংলা নামের নিজের ফেসবুক পেইজে ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে ব্ল্যাকমেইলিং ও হয়রানি করে। সেই সঙ্গে ব্যবহার করা হয় শৃঙ্খলা বাহিনীকেও। ফজলুর এমন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন। তার এহেন কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

সম্প্রতি এফ এম ফজলুর রোষানল থেকে রেহাই পায়নি তার আপন শ্যালক মো.সাইদুর ইসলামও।  দেয়া হয়েছে তার নামে চাঁদাবাজির মতো কঠিন  মামলা। এ ছাড়া ভিকটিম রাফসানকে নির্যাতনের পর ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে উল্টো তার পরিবারের বিরুদ্ধেই চুরির অভিযোগে গত ২৫ আগস্ট রাতে থানায় মামলা দায়ের করে ফজলু। 


মামলার বিবাদী অভিযুক্ত এফ এম ফজলুল হক ফজলুর সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে লাইন কেটে দেন। তবে তার স্ত্রী রিপন আক্তারকে একাধিকবার  ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। 


এ ব্যাপারে এসপি (পিবিআই) মানিকগঞ্জ জয়িতা শিল্পী বলেন,মামলাটি এখনো আমাদের কাছে আসেনি। হাতে পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।