সিংগাইরে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী নিয়ে প্রকৌশলী-ঠিকাদার দ্বন্দ্ব, থানায় জিডি
সূত্রঃ বিডি মেইল
সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ঝামা খোয়া ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক কর্মকর্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, বাগ্বিতণ্ডার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে প্রকৌশল অফিসের কার্যসহকারী উজ্জ্বল হোসাইনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. হেকমত আলী।
উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সামদানী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত রোববার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় জিডি করেন। জিডিতে মেসার্স অবনী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হেকমত আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত রোববার উপজেলার মানিকনগর বাজারে ২৮০ মিটার আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে মেসার্স অবনী এন্টারপ্রাইজ। কাজের সময় নিম্নমানের ঝামা খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা এতে আপত্তি জানালে বিষয়টি প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হয়।
পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে তদারকির দায়িত্বে থাকা পরামর্শক প্রকৌশলী ফরহাদ হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ও কার্যসহকারী উজ্জ্বল হোসাইন ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা অভিযোগ ওঠা নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ঢালাইয়ের কাজে আপত্তি জানান। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হেকমত আলী ও তাঁর লোকজনের সঙ্গে প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্যে কার্যসহকারী উজ্জ্বল হোসাইন ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে হেকমত আলী তাঁর মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিডিআরআইডব্লিওএসপি প্রকল্পের আওতায় সিংগাইর উপজেলার বিন্নাডাঙ্গী জেলা সড়ক (বাস্তা)-নবাবগঞ্জ উপজেলা ভায়া হাতনি বাজার, মানিকনগর জিসি ও শোল্লা সড়কের ৭ হাজার ৬১০ মিটার প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণের কাজ পেয়েছে মেসার্স অবনী এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এক বছর মেয়াদি প্রকল্পটির কাজ চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক টিক্কা বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ করা এবং সরকারি অফিসের কর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাস্তার কাজে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রকৌশল কর্মকর্তাদের অবস্থান প্রশংসনীয়।
মানিকনগর বাজারের পল্লিচিকিৎসক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করতে দেওয়া যাবে না। জনগণের অর্থে নির্মাণাধীন সড়কের কাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখতে হবে।
জামির্ত্তা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মুহাম্মদ উল্লাহ বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সড়কের কাজ হচ্ছে। এ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।
অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, তাঁদের না জানিয়ে নিম্নমানের ঝামা খোয়া এনে কাজ শুরুর চেষ্টা করা হলে ঢাকা থেকে তদারকিতে আসা বিশেষ টিমের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁরা বাধা দেন। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের চেষ্টা করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঠিকাদার হেকমত আলী তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং একপর্যায়ে স্টাফ উজ্জ্বল হোসাইনের মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেসার্স অবনী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হেকমত আলী। তিনি বলেন, ভিডিও ধারণ বা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরামর্শক ও প্রকৌশলীর সঙ্গে নির্মাণসামগ্রী নির্বাচন করেই ঢালাইয়ের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। যে কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে, সেটি ঝামা খোয়া নয়; প্রিকেটের কালো অংশ নিয়ে আপত্তি করা হয়েছে।
সিংগাইর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী গোলাম সামদানী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্তুপ করে রাখা নিম্নমানের ঝামা খোয়া ছাড়া রাস্তার আরসিসি ঢালাইয়ের নিচের অংশ রাবিশ দিয়ে ভরা হয়েছে। ওই অংশ পুনরায় উত্তোলন করে ভালো মানের খোয়া দিয়ে কাজ করতে হবে। বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কাজে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।









